
নিজস্ব প্রতিনিধি: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধার উন্নয়ন এবং নারীদের টেকসই জীবিকার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় ‘রাইজ’ প্রকল্পের জেলা পর্যায়ের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স (বিটিএস) ও টেরে দেস হোমস (Tdh) ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
জার্মান সরকারের সহায়তায় এবং জার্মান উন্নয়ন ব্যাংক (KfW)-এর মাধ্যমে ব্র্যাক প্রতিষ্ঠিত ক্লাইমেট ব্রিজ ফান্ডের (CBF) অর্থায়নে ৩৬ মাস মেয়াদি এ প্রকল্প সাতক্ষীরা পৌরসভার তিনটি জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ কলোনিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে।সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাওসার আজিজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক শেখ মইনুল ইসলাম মইন এবং সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান। সভায় সভাপতিত্ব করেন টেরে দেস হোমস (Tdh) ফাউন্ডেশনের বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিসের ম্যানেজার সুরজিৎ কুণ্ডু।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের সাতক্ষীরা কার্যালয়ের ম্যানেজার, প্রোগ্রাম ও ডিস্ট্রিক্ট ইনচার্জ মো. শরিফুল ইসলাম। তিনি প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও বাস্তবায়ন কৌশল তুলে ধরে বলেন, প্রকল্পের কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নে সরকারি দপ্তর, পৌর কর্তৃপক্ষ, উন্নয়ন সংস্থা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমন্বিত অংশগ্রহণ জরুরি।ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়কারী এ.এস.কে. আশরাফুল মাশরুদ ক্লাইমেট ব্রিজ ফান্ডের কার্যক্রম সম্পর্কে আলোচনা করেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক কাওসার আজিজ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা ও বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি প্রকল্পটিকে সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে সাতক্ষীরা পৌরসভার নির্বাচিত তিনটি কলোনিতে কার্যক্রম বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।সভায় মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রকল্পের প্রেক্ষাপট, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, প্রধান কার্যক্রম, প্রত্যাশিত ফলাফল এবং বছরভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি বেজলাইন সমীক্ষার তথ্য তুলে ধরে প্রকল্প এলাকার বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় ক্লাইমেট ব্রিজ ফান্ডের কার্যক্রম, কারিগরি সহায়তাকারী সংস্থা টেরে দেস হোমসের ভূমিকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের কার্যক্রম সম্পর্কেও বিস্তারিত জানানো হয়।
প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত তিনটি কলোনিতে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি নারীদের পরিবেশবান্ধব ক্ষুদ্র উদ্যোগের মাধ্যমে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও যুবসমাজের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা ও অন্যান্য পরিবেশগত সংকটের কারণে সাতক্ষীরার প্রান্তিক জনগোষ্ঠী নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও জলবায়ুজনিত কারণে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো এসব সংকটে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে রাইজ প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মৌলিক সেবা প্রাপ্তি, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও টেকসই জীবিকার সুযোগ সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের সুফল দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে অবকাঠামোর যথাযথ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মালিকানাবোধ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
