
হাফিজুর রহমান:সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের ( বিআরডিবি) তত্ত্বাবধানে দীর্ঘমেয়াদি আয়বর্ধন মূলক মহিলাদের হাঁস, মুরগি পালনের উপর ৩০ জন মহিলা প্রশিক্ষণার্থীদের খাবার ,নাস্তা ও প্রশিক্ষণ বরাদ্দের অর্ধেক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলার অতিরিক্তে দায়িত্বে থাকা পল্লীউন্নয়ন কর্মকর্তা (বিআরডিবি) তানজিয়ারার বিরুদ্ধে। গত ৫ মার্চ হতে ৩ দিনব্যাপী গতকাল মঙ্গলবার ৭ মার্চ ছিল প্রশিক্ষণের শেষ দিন। উপজেলার দরিদ্র ৩০ জন মহিলা প্রশিক্ষণার্থী এ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে। ৩ দিনের এই প্রশিক্ষণে ১ লক্ষ ২১ হাজার ৮০০ টাকা বরাদ্দ থাকে। নাম না প্রকাশ করার শর্তে অফিসের একজন স্টাফ বলেন প্রশিক্ষণার্থীদের সকালের নাস্তা বাবদ ৮০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও সেখানে প্রত্যেককে বিস্কুট এবং ১ টি কলা, দুপুরে নাজিমগঞ্জ বাজারের আব্দুল কাদেরের রাধুনী বিরানি হাউস থেকে ১৩৫ টাকার মধ্যে ১ পিস সোনালি মুরগির মাংস, ১ টি সিদ্ধ ডিম এবং সালাত দিয়ে ৪০ প্যাকেট খাবার নিয়ে আসা হয়। শিক্ষা উপকরণ হিসেবে ১ টি কলম ,১টি খাতা এবং ১টি ৫ টাকা মূল্যের প্লাস্টিকের ফাইল কভার। এছাড়াও ৩ দিন প্রশিক্ষণে ট্রেনারদের জনপ্রতি ১১৫০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় থানার অফিসার্স ইনচার্জ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে ট্রেনার হিসেবে অংশগ্রহণ করলেও তাদেরকেও অনুরূপ সম্মানী ভাতা প্রদান করা হয়েছে বলে জানান। বিষয়টির সত্যতা জানার জন্য নাজিমগঞ্জ বাজারে রাধুনী বিরানি হাউজে গেলে মালিক আব্দুল কাদের জানান বিআরডিবি অফিস থেকে ১৩৫ টাকার মধ্যে তিন দিনের জন্য ৪০ প্যাকেট করে খাবার নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তিনি আরো জানান প্রশিক্ষণার্থীদের কাগজ ,কলম,খাতা বরাদ্দ বাবদ জন প্রতি ১,শ সকালের নাস্তা বাবদ ৮০ এবং দুপুরের খাবারের জন্য জনপ্রতি ৩৫০ টাকা ছাড়াও যাতায়াতের জন্য একটি মোটা অংকের টাকার বরাদ্দ থাকে। এখান থেকে পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা তানজিয়ারা অর্ধেক টাকা নিজে পকেটে পুরে বাকি টাকা দিয়ে দায় সারাভাবে প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করেছে । ঘটনার আরও সত্যতা জানার জন্য কালিগঞ্জ উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার বিআরডিবি অফিসে যেয়ে দেখা যায় শ্যামনগর উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা তানজিয়ারা বর্তমানে অতিরিক্ত দায়িত্বে কালীগঞ্জ পল্লী উন্নয়ন অফিসে (বিআরডিবি )দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় বসে আছে। ওই সময় এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি তার সহকারি উপজেলা সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা অনুপ কুমার সরকারকে সাংবাদিকদের তথ্য দিতে বলেন। ওই সময় তিনি ভ্যাটআই টি বাদে ৩ দিনের প্রশিক্ষণ, যাতায়াত ,নাস্তা, দুপুরের খাবার কাগজ-কলম এবং ট্রেনার খরচ বিলবোর্ডসহ ১ লক্ষ ১৩ হাজার ৬২৬ টাকার বরাদ্দ বলে জানান। তবে সকালের নাস্তা ,দুপুরের খাবার ,যাতায়াত খরচ সহ অন্যান্য মডারেটর, ট্রেনার তাদের কত টাকার সম্মানি সে ব্যাপারে অফিসের করণিক কবির আসলে জানাবেন বলে বসে অপেক্ষা করতে বলেন। দীর্ঘ ২ ঘন্টা পরে কবির ফিরে আসলে উপজেলা অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা তানজিয়ারা বরাদ্দের টাকা ধামাচাপার দিতে সাংবাদিকদের তথ্য অধিকার আইনে আবেদন ছাড়া কোন তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তানজিয়ারা খাতুন কালিগঞ্জ উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা থাকতে তার বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি সহ নানাবিধ স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গণ আন্দোলনে তাকে শ্যামনগর উপজেলায় বদলি করা হয়। ওই সময় তিনি কালিগঞ্জ উপজেলায় দায়িত্বে থাকতে উপজেলা বিভিন্ন সমবায় সমিতির সদস্যদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ নিয়ে ঋণ বিতরণসহ ভিক্ষুকের মতন হাত পেতে নিজের সন্তানের জন্য ঋণ গ্রহীতাদের নিকট থেকে স্কুল ড্রেস সহ জামা কাপড় চেয়ে নিতেন। এছাড়াও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মশালার টাকা আত্মসাতের বিস্তার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কালিগঞ্জ উপজেলায় বিআরডিবি কর্মকর্তা না থাকায় তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার খবরে এখানকার বিআরডিবির কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান সহ সকল সদস্য এবং সমবায়ীরা অতিরিক্ত দায়িত্বে কালীগঞ্জে যোগদান যাতে না করতে পারে সে জন্য তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। প্রসঙ্গে পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের বিআরডিবি র কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান শেখ লুৎফর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান দুর্নীতির কারণে মহা ঘুষখোর এখান থেকে বদলি হলে উপজেলা বাসি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তাকে শ্যামনগর থেকে কালীগঞ্জ অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ায় আমরা তার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। নিজের অপকর্ম ঢাকতে প্রশিক্ষণে বরাদ্দের টাকা বা জনগণের টাকা সে কখনো জানাতে চায় না তার থুলের বিড়াল বের হবে বলে।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
