
রঘুনাথ খাঁঃ চলাচলের রাস্তা সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার
নামে দাবিকৃত দেড় লাখ টাকা দিতে রাজী না হওয়ায় দুই নারীসহ
তিনজনকে পিটিয়ে জখম ও লুটপাটের ঘটনায় অবশেষে থানায় মামলা
রেকর্ড করা হয়েছে। সাতক্ষীরা শহরের দক্ষিণ কামাননগরের মোঃ নজরুল
ইসলামের ছেলে একরামুল হক বাদি হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে
অজ্ঞাতনামা সাতজনের বিরুদ্ধে রবিবার এ মামলা দায়ের করেন।
মামলার আসামীরা হলেন, সাতক্ষীরা শহরের দক্ষিণ কামাননগরের খোকন
ড্রাইভারের ছেলে আনিসুর রহমান বাবু, মোঃ হানিফ, মোঃ সোহাগ,
আনিসুরের ছেলে জিম, আব্দুল্লার ছেলে রফিক, খোকন চাওয়ালার ছেলে
রুস্তুম ও রফিক।
এদিকে গত ২৮ জানুয়ারি থানার এজাহার দাখিল করার পরও মামলা নেওয়ার
ব্যাপারে পুলিশ পরিদর্শক সুশান্ত ঘোষের টালবাহানার পর আপত্তি স্বত্বেও
শনিবার রাতে থানায় বাবু মেম্বরের উপস্থিতেতে বাদিপক্ষের সঙ্গে
মীমাংসার চেষ্টা করানোয় ক্ষুব্ধ হন নির্যাতিতরা। এইসাথে আসামী
হানিফের বিরুদ্ধে দেড় লাখ টাকা দাবির কথা সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকলেও
মামলা রেকর্ডকারি কর্মকর্তারা চাঁদাবাজির ধারা ৩৮৫ উল্লেখ না
করায় বিষ্ময় প্রকাশ করেন তারা।
মামলার বিবরনে জানা যায় , শ্বশুর ও শ্বাশুড়ি মারা যাওয়ার পর্য শ্যালক
আনোয়ার হোসেন সৌদি আরবে চলে যাওয়ায় পাঁচ বছর যাবৎ তিনি
স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। দুই বছর পর
পার্শ্ববর্তী আড়াই শতক জমি কেনেন রুহুল আমিনের স্ত্রী সখিনা
খাতুন। বর্তমান মাপ জরিপে রাস্তা অন্যত্র দেখানো হওয়ায় সখিনা প্রায়
চার শতক জমি দখল করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাদের চলাচলের রাস্তা নিয়ে
সমস্যার সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েকবার শালিসি বৈঠক হলেও
মীমাংসা হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২২ জানুয়ারি একই এলাকার
হানিফ রাস্তার সমস্যা সমাধানের নামে তার স্ত্রী লিলি বেগমের কাছে
দেড় লাখ টাকা চান। দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় গত ২৪ জানুয়ারি
একই এলাকার খোকন ড্রাইভারের ছেলে আনিসুর রহমান বাবু, মোঃ
হানিফ, মোঃ সোহাগ, আনিসুরের ছেলে জিম, আব্দুল্লার ছেলে রফিক,
খোকন চাওয়ালার ছেলে রুস্তুম ও রফিকসহ কয়েকজন তাদের বাড়ির সামনে
চলাচলের রাস্তার উপর ইট সিমেন্ট ও বালি রেখে অবরোধ করে ফেলে।
প্রতিবাদ করায় তাকে ও তার স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করা
হয়। তার ব্যবহৃত একটি স্মার্ট ফোন ও বাটাম ফোন ভেঙে পানিতে
ফেলে দেওয়া হয়। জীবন বাঁচাতে তিনি ও স্ত্রী ঘরে ঢুকে দরাজা লাগিয়ে
দেন। হামলাকারি ওইসব লোকজন দরজা ভেঙে ঘরের মধ্যে আসবাবপত্র ভাংচুর
করে। তাদেরকে দ্বিতীয় দফায় মারপিট করলে পাশে ঘরে থাকা তার শ্যালিকা
রহিমা বেগম ছুঁটে এলে তাকেও পিটিয়ে জখম করা হয়। হামলাকারিার
ঘরের মধ্যে থাকা গ্যাসের চুলা, গ্যাস সিলিণ্ডার, রাইস কুকার, প্রেসার
কুকার, হাঁড়ি , পাতিলসহ ৩০ হাজারের বেশি টাকার মালামাল লুট করে
নিয়ে যায়। পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি
করে। বর্তমানে হামলাকারিদের ভয়ে তারা বাড়িতে উঠতে পারছেন
না।স্থানীয় বাবু মেম্বরসহ একটি মহল তাদেরকে ওই বাড়ি দুই লাখ
টাকায় বিক্রি করে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক সুশান্ত ঘোষ জানান, এ
ঘটনায় একরামুল হকের দায়েরকৃত মামলাটি রবিবার রেকর্ড করা
হয়েছে। তবে বাদি থানায় থাকাকালিন শনিবার রাতে প্রতিপক্ষরা এসে
মীমাংসার আহবান করেছিলো বলে জানান তিনি। তবে চাঁদাবাজির
ধারা কেন নেই সে ব্যাপারে তিনি কিছু বলতে পারবেন না।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
