
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় অবৈধভাবে পরিচালিত চিকিৎসক আনিছুর রহমানের মালিকানাধীন আনিকা ক্লিনিক সিলগালা করেছে প্রশাসন। রোগীর মৃত্যুর পর মৃতদেহ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠায় সিভিল সার্জনের নির্দেশে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
রোববার (বেলা ১১টা) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তারা ক্লিনিকটি সিলগালা করেন। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমান, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তরিকুল ইসলাম এবং শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ খালেদুর রহমান।
অভিযানকালে ক্লিনিকে ভর্তি থাকা রোগীদের নিরাপদে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়। এ ছাড়া আগের দিন ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া গৃহবধূ সালেহা বেগমের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমান জানান, প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র না থাকায় আগেও আনিকা ক্লিনিক সিলগালা করা হয়েছিল। কিন্তু অনুমোদন নবায়ন না করেই পুনরায় ক্লিনিকটি চালু রাখা হয়। সম্প্রতি বিষপানে আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর পুনরায় ক্লিনিক সিলগালার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, এর আগে দালালচক্রের মাধ্যমে রোগী ভাগিয়ে নেওয়া ও রোগীর স্বজনদের ওপর হামলার অভিযোগে চিকিৎসক আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলমান রয়েছে।
শ্যামনগর থানার ওসি খালেদুর রহমান জানান, শনিবার রাত ১১টার দিকে শ্যামনগরের কৈকালী এলাকা থেকে সালেহা বেগমের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। রোববার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য তা সাতক্ষীরা মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বিকেলে শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামের ফারুক হোসেনের স্ত্রী সালেহা বেগম কীটনাশক পান করেন। স্বজনরা তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলেও দালালদের প্ররোচনায় পাশের আনিকা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে পাকস্থলী ওয়াশের পর রোববার বিকেলে তার মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের ক্ষোভ থেকে বাঁচতে চিকিৎসক আনিছুর রহমান আইসিইউতে নেওয়ার কথা বলে অ্যাম্বুলেন্সে মৃতদেহ নিয়ে ক্লিনিক ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
