Breaking News

সীমান্তে তেল পাচার রোধে বিজিবির বিশেষ অভিযান

Spread the love

প্রেসবিজ্ঞপ্তিঃ ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও পাচার প্রতিরোধে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে জোরদার অভিযান চালাচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সঙ্গে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে এবং গরু পাচার ঠেকাতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
বিজিবির যশোর রিজিয়ন জানায়, তাদের দায়িত্বপূর্ণ প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় প্রতিদিন শতাধিক বিওপি থেকে টহল জোরদার করা হয়েছে। ২টি সেক্টরের অধীনে ৭টি ইউনিটের মাধ্যমে নিয়মিত ও বিশেষ মিলিয়ে দিনে-রাতে শত শত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে তেলের বাজার অস্থিরতার সুযোগে অবৈধ মজুদ ও পাচার রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বেনাপোল, ভোমরা ও দর্শনা স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানির যানবাহনে ১৩টি বিশেষ তল্লাশি চালানো হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ২২টি তেল পাম্পে নজরদারি ও চেকিং জোরদার করা হয়েছে।
বিজিবি জানায়, সম্ভাব্য পাচার রুটগুলো চিহ্নিত করে সেখানে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এ পর্যন্ত ২ হাজার ৬৮১টি টহল এবং ৯৮৪টি বিশেষ চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়েছে। স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করতে প্রায় এক হাজার সচেতনতামূলক সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে অবৈধভাবে মজুদ করা তেল জব্দ করা হয়েছে। এ ধরনের ৪৩টি টাস্কফোর্স অভিযানে তিনজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া যৌথভাবে ৬৭টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
ঈদুল আজহা সামনে রেখে সীমান্তে গরু পাচার ঠেকাতে অতিরিক্ত টহল, চেকপোস্ট ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। সন্দেহভাজন চলাচল পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত প্রচারণাও চালানো হচ্ছে।
চলতি বছর জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত অভিযানে প্রায় ৬২ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৯৬ জনকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা মালামালের মধ্যে রয়েছে স্বর্ণ, রৌপ্য, হিরা, অস্ত্র ও গুলি। গত বছরও একই ধরনের অভিযানে প্রায় ৩৭৭ কোটি টাকার পণ্য জব্দ করা হয়েছিল।
মাদকবিরোধী অভিযানে চলতি বছরে বিপুল পরিমাণ মদ, ইয়াবা, গাঁজা, ফেন্সিডিল ও ক্রিস্টাল মেথ উদ্ধার করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ২২ কোটি ৯০ লাখ টাকা। গত বছরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদক জব্দের তথ্য দিয়েছে সংস্থাটি।
বিজিবি বলছে, সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং চোরাচালান প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সংস্থাটির মহাপরিচালকের ভিশন অনুযায়ী সীমান্তকে “নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক” হিসেবে গড়ে তুলতে তারা কাজ করে যাচ্ছে।

About dainiksatkhira24

Check Also

তালায় তুবা পাইপ এ্যান্ড ফিটিংস ইন্ডাস্ট্রিজ ‎বেকার সমস্যা সমাধানে অভূতপূর্ব অবদান

Spread the loveফারুক সাগর: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে অভূতপূর্ব অবদান রেখে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com