
ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সম্প্রতি মানুষজনকে ঠেলে পাঠানো শুরুর পর ময়মনসিংহের সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি কৃষকেরা ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় গরু চরাতেও যাচ্ছেন না।বুধবার (১৫ মে) দিনভর ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া উপজেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে সবার সতর্ক অবস্থান। ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা শুরুর পর গুগল মানচিত্র থেকে বিএসএফের ক্যাম্পগুলো মুছে দেওয়া হয়েছে। তবে বিজিবির ক্যাম্পগুলো মানচিত্রে আছে। সম্প্রতি ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও আগের লাল বাতির বদলে সাদা বাতি স্থাপন করছে বলে বিজিবির একটি সূত্র জানিয়েছে।বুধবার দুপুরে হালুয়াঘাটের গোবরাকুড়া বিজিবি ক্যাম্পের ছয়জন সদস্যকে নীল পতাকা হাতে সীমান্ত এলাকায় টহল দিতে দেখা যায়। বিপরীতে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তোরা জেলার গাছুয়াপাড়া বিএসএফ ক্যাম্প। গোবরাকুড়া বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার মো. আজিবুল হাসান বলেন, ‘আমাদের জনবল বৃদ্ধি ও টহল বাড়ানো হয়েছে। বিএসএফ কোনো অপতৎপরতা চালালে তা প্রতিহত করতে আমরা প্রস্তুত। আমাদের এলাকা দিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পুশ ইনের ঘটনা ঘটেনি।’হালুয়াঘাটের গাজীরভিটা ইউনিয়নের বরাক গ্রামে বান্দরাকাটা বিজিবি ক্যাম্প। বিপরীতে ভারতের নামছাড়া বিএসএফ ক্যাম্প। সীমান্ত সড়ক দিয়ে যাওয়ার পথে বিএসএফ ও বিজিবির টহল দেখা যায়। এলাকায় দাঁড়িয়ে কথা হয় বরাক গ্রামের সাইফুল ইসলামের (৪০) সঙ্গে। তিনি বলেন, বিএসএফ সদস্যসংখ্যা ও টহল নজরদারি বাড়িয়েছে। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের কারণে আতঙ্কে থাকলেও এখন যুদ্ধ বন্ধ হওয়ায় আতঙ্ক কমেছে।বরাক গ্রামের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন (৩৮) বলেন, ‘আগে গরুকে খাওয়ানোর জন্য বর্ডারে গেলেও বিজিবি মাইকিং করে দিয়েছে আমরা যেন না যাই। তারপর থেকে সীমান্তে গরু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে না।’ একই গ্রামের গিয়াস উদ্দিন (৬০) বলেন, ‘সীমান্তে বিজিবি টহল বাড়িয়েছে, সব সময় লোক আছেই। চাইলেই আমাদের দেশে কেউ ঢুকতে পারবে না। আমরাও সতর্ক আছি।’কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সাহেবের আলগা থেকে সুনামগঞ্জের মোহনপুর পর্যন্ত ২৪৩ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে ময়মনসিংহ সেক্টর। সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সরকার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ সদস্য বাড়াতে শুরু করলে তাঁরা বিজিবির সদস্যও বাড়াতে শুরু করেন। সীমান্ত এলাকার গেটগুলো দিয়ে যেন পুশ ইন না করতে পারে, সে জন্য টহল আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে।
বিএসএফকে বলা হয়েছে, পুশ ইন না করে কোনো বাংলাদেশি হলে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে তাদের জানালে তারা নিয়ে আসবেন। বিষয়টি নিয়ে তারা (বিজিবি) বিরক্ত। বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশিদের সঙ্গে অন্য কোনো লোক তারা (ভারত) ঢোকানোর চেষ্টা করলে করতে পারে। আমাদের সঙ্গে পুলিশ, আনসার, স্থানীয় প্রশাসন ও গ্রামবাসী অনবরত সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে। যাতে পুশ ইনের মতো জঘন্য ঘটনা পার্শ্ববর্তী দেশের বাহিনী না করতে পারে।’
গুগল মানচিত্র থেকে বিএসএফের ক্যাম্প মোছার ব্যাপারে জানতে চাইলে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সীমান্তবর্তী এলাকায় কাছাকাছি গেলে ওদের (বিএসএফ) ক্যাম্পগুলো দেখা যাবে। আমাদের ক্যাম্পগুলো এখনো সীমান্ত থেকে একটু দূরে। আমরা যখন ডিউটি করি, তখন তাদের ক্যাম্প দেখতে পাচ্ছি। বর্তমান ডিজিটাল যুগের কোনো কিছুই লুকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। এতে নিরাপত্তায় কোনো প্রভাব পড়বে না। তারপরও বিষয়টি নিয়ে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হবে।’ তিনি আরও বলেন, সীমান্ত থেকে বিজিবির ক্যাম্পগুলোর দূরত্ব কমাতে ক্যাম্পগুলো সীমান্তের কাছাকাছি নিয়ে যেতে হবে। সে জন্য ইতিমধ্যে সরকারের কাছে প্রস্তাব জমা দেওয়া আছে।
৪ মে থেকে ১৫ মে পর্যন্ত বাংলাদেশের পাঁচ জেলার সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে ৩১৮ জনকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪ মে মেহেরপুর সীমান্ত দিয়ে ১০ জনকে, ৭ মে খাগড়াছড়ি ও সাতক্ষীরা দিয়ে যথাক্রমে ৬৬ ও ৭৮ জনকে, মৌলভীবাজার সীমান্ত দিয়ে (৭, ৮, ১৪ ও ১৫ মে) ১৪৮ জন এবং ১৪ মে সিলেট সীমান্ত দিয়ে ১৬ জনকে পুশ ইন করা হয়।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
