Breaking News

পাইকগাছায় বন্দোবস্ত জমি জালিয়াতি করে দখল

Spread the love

পাইকগাছা প্রতিনিধি:খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলায় সরকারি বন্দোবস্তকৃত জমি প্রতারনার মাধ্যমে দখল হয়েছে। ভূমি গ্রহিতা অরবিন্দু সাধুর মৃত্যুর পর জমি বিক্রি বা হস্তান্তরে আইনগত বাধা থাকলেও ভুয়া কাগজে দখল করেছে প্রতারকরা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেছেন ভুক্তভোগিরা। অভিযোগকারীদের নাম পঞ্চানন সাধু ও অসিত সাধু।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বন্দোবস্ত জমির মালিক অরবিন্দু সাধু ২০২৩ সালে মৃত্যুবরণ করলে তার স্ত্রী গায়েত্রী সাধু স্বাক্ষর নকল ও জালজালিয়াতি করে উপজেলার কপিলমুনি বাজারের দোকান ঘর নিজের নামে করে ভুয়া দলিল করেন। এরপর গায়েত্রী সাধুর ছোট ভাই শ্রীবাস সাধু তার স্ত্রী সীমা রানী সাধু ও নিজ ছেলে সুফল সাধুর নামে একটি দোকান লিখে নেন। অপর দোকানটি ভাড়াটিয়া দেব্রত সাধুর নিকট বিক্রি করেন। ২০২৫ সালে গায়েত্রী সাধুর মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া সম্পদ শ্রীবাস সাধু ও দোকান ভাড়াটিয়া দেব্রত সাধু দখল করেছে। প্রকৃত ওয়ারেশগণ সম্পত্তি পায়নি কিংবা সরকারের আওয়াতায়ও এ জমি যায়নি। উল্টো জালিয়াতি করে পুরো সম্পত্তি এবং সরকারি জমি দখল করেছে শ্রীবাস সাধু এবং ভাড়াটিয়া দেব্রত সাধু।
তবে এ বিষয়ে শ্রীবাস সাধু এবং সীমা রানী সাধুর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযুক্ত দেব্রত সাধু জানান, আমি অরবিন্দু সাধুর নিকট থেকে দোকান ভাড়া নেই। পরবর্তীতে তিনি দোকান তার স্ত্রীকে লিখে দেন। আমি তার স্ত্রী গায়েত্রী সাধুর নিকট থেকে চার শাটারের মধ্যে থেকে দুই শাটারের দোকান কিনে নেই। বাকি দুই শাটারের দোকান তার ভাইপো সুফল সাধুকে লিখে দেন।
পাইকগাছা ভূমি অফিস বলছে, অরবিন্দু সাধুর বন্দোবস্ত জমি কপিলমুনি বাজারের প্রথম গলি দোকান নং ২ ও ৩ । যার মৌজা নাছিরপুর, এস এ খতিয়ান-১ এবং এসএ দাগ ৪৩১। এই জমি ওয়ারেশ ছাড়া কেউ নিতে পারবে না কিংবা বিক্রিও করতে পারবে না এবং মৃত ব্যক্তি যদি নিঃসন্তান থাকে তাহলে তার ওয়ারিশগণ জমি পাবে যদি কিনা তারা গরিব হয় এবং পাওয়ার যোগ্য হয়। এছাড়া এ ধরনের প্রতারনার মাধ্যমে দলিল জালিয়াতি ও প্রতারণায় ধারা ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ অনুযায়ী ফৌজদারি মামলা হয়। তবে ভূমি অফিসে বন্দোবস্ত বাতিল ও পুনঃরেকর্ড করা যাবে।

পাইকগাছা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফজলে রাব্বি জানান, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। যদি কেউ জাল জালিয়াতি করে সরকারি বন্দোবস্ত জমি আত্মসাৎ করে তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। খাস জমি বন্দোবস্তের মূল উদ্দেশ্য হলো গরিব, ভূমিহীন ও অসহায় পরিবারের পুনর্বাসন। এই জমি কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। সরকার এটি তাদের জন্য সংরক্ষণ করেছে যারা বাস্তবেই জমিহীন ও অসহায়। তাই কেউ যদি জাল জালিয়াতি করে বা কাগজপত্রে প্রতারণা করে খাস জমি লিখে নিতে চায়, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে আমি নিজেই বাড়ি বাড়ি যেয়ে যাচাই-বাছাই করব কে প্রকৃত ভূমিহীন, কে নয়। যাচাই শেষে যিনি সত্যিকার অর্থে পাওয়ার যোগ্য, কেবল তাকেই বন্দোবস্ত দেওয়া হবে।

About dainiksatkhira24

Check Also

অর্থের অভাবে নিভে যাচ্ছে কলমযোদ্ধা ফসিয়ারের জীবনপ্রদীপ

Spread the loveপাইকগাছা প্রতিনিধি: এ যেন এক নির্মম সময়ের গল্প। যে মানুষটি একসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com