
ডেস্ক রিপোর্ট: জুলাই আন্দোলন ঘিরে গতবছর আজকের দিনে (২৮ জুলাই) ডিবি হারুনের ‘ভাতের হোটেল’ খ্যাত রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয় থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ককে ভিডিও বার্তায় ছাত্র আন্দোলনের সব ধরনের কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিতে বাধ্য করা হয়েছিল।অন্যদিকে সমন্বয়কদের জিম্মি করে বিবৃতি দেওয়ানো হয়েছে দাবি করে ২৯ জুলাই সারা দেশে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের ডাক দেন সমন্বয়ক আবদুল কাদের। আরেক সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এই বিজ্ঞপ্তি পাঠান।ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ও ছাত্রলীগের আক্রমণে নিহত শত শত শহীদের আত্মত্যাগকে তিরস্কার করে ডিবি কার্যালয়ে বন্দুকের নলের মুখে সমন্বয়কদের মাধ্যমে স্ক্রিপ্টেড বিবৃতি আদায়ের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। দাবি আদায়ে আমরা অবিচল ছিলাম, রয়েছি এবং থাকব। স্ক্রিপ্টেড বিবৃতি দিয়ে ছাত্রসমাজের দাবিগুলোর প্রতি সরকার চরম ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত ছাত্রসমাজ শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করতে পারে না।’
ছয় সমন্বয়কের আন্দোলন প্রত্যাহারের ভিডিওবার্তার আগে ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদের ফেসবুক পেজে কয়েকটি ছবিযুক্ত করে পোস্ট দেওয়া হয়। ডিবি কার্যালয়ে সমন্বয়কদের নিয়ে নাশতা করতে দেখা যায় তাকে। ডিবিপ্রধানের সঙ্গে নৈশভোজ করতেও দেখা যায় সমন্বয়কদের।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করার সময় নাহিদ ইসলামের পরা লুঙ্গি আড়াল করতে রাখা ছিল সংবাদপত্র। এ সময় সমন্বয়ক সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, নুসরাত তাবাসসুম ও সহ-সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
এদিন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী অন্যতম সমন্বয়ক আরিফ সোহেলকেও তুলে নিয়ে যায় ডিবি। টানা ১০ দিন বন্ধ রাখার পর চালু করা হয় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা।
এদিন আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিহত ৩৪ জনের পরিবারকে জোরপূর্বক গণভবনে এনে তাদের হাতে পারিবারিক সঞ্চয়পত্র এবং নগদ অর্থ তুলে দেন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা। আন্দোলন দমনে অব্যাহত ছিল পুলিশের ব্লক রেইড অভিযান। ২৮ জুলাই গ্রেপ্তারের সংখ্যা সাড়ে ৯ হাজার ছাড়িয়ে যায়।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
