
রঘুনাথ খাঁ:
মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আদেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিরোধপূর্ণ জমির বাড়িঘর ভাংচুর ও গাছ গাছালি লুটপাট শেষ পরিবারের সদস্যদের মারপিটের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামীরা প্রকাশে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদেরকে ধরছে না। প্রতিকার চেয়ে শনিবার সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেছেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার পারুলগাছা গ্রামের বৃদ্ধ আজগার আলী গাজী।
৮০ বছরের বৃদ্ধ আজগার আলী গাজী পুলিশ সুপারের কাছে লেখা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন যে, একই গ্রামের বাবর আলী গাজী ও তার শরিকদের সাথে তারই পৈতৃক ও রেকডীয় ৫২ শতক জমির মধ্যে ৪৪ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। ১৯৪১ সালের একটি পাট্টামূলে বাবর আলী ও তার শরীকরা ৪৪ শতক জমি দাবি করে রেকর্ড সংশোধনের জন্য কালিগঞ্জ সহকারি জজ আদালতে দেঃ ২০৯/৮৬ নং মামলা করেন। বিপক্ষে রায় বিপক্ষে যাওয়ায় বাবর আলী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল করেন। পরবর্তীতে মামলাটি নিম্ন আদালতে পূর্ণবিচারের জন্য গেলে ২০০২ সালের ২৯ আগষ্ট কালিগঞ্জ সহকারি জজ আদালতের বিচারক বিরোধীয় এক একর ৪৫ শতক জমি উভয়পক্ষকে ভাগাভাগি করে নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে মামলা খারিজ করে দেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে আজগার আলী পর্যায়ক্রমে উচ্চ আদালতে গেলে মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর নিম্ন আদালতের রায় স্থগিত করে জমির উপর আট সপ্তাহের স্থিতাবস্থা জারির নির্দেশ দেন। যাহার মেয়াদ বর্ধিত হয়ে আজো তার পক্ষে বহাল আছে।
অভিযোগপত্রে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, সুপ্রিম কোর্টের আদেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গত পহেলা মার্চ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মেম্বর আফছার আলী মোড়লের হুকুমে বাবর আলী গাজীর ছেলে কিতাব, কুরবান, নূর ইসলাম ছাড়াও শুকুর আলী, আইয়ুব আলী, মুনসুর আলী, মজু গাজী, আনছার গাজীও মোহাম্মদ গাজীসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা তাদের বাড়িতে ঢুকে ভাংচুর শুরু করে। তারা জমির ঘেরা ও বেড়া কেটে সাড়ে তিন লক্ষাধিক টাকার বিভিন্ন প্রজাতির গাছগাছালি কেটে ও দেড় লক্ষাধিক টাকার শ্যালো মেশিন লুট করে নিয়ে যায়। ঘরবাড়ি ভাংচুরসহ চার লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি করে তারা। ভাংচুর ও লুটপাটে বাধা দেওয়ায় তাকেসহ তার পরিবারের সদস্য আছিয়া খাতুন, মিলি খাতুন ও নাতি হাসিবকে পিটিয়ে জখম করা হয়। দীর্ঘদিন তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ ঘটনায় থানায় মীমাংসার জন্য বসাবসি করা হলেও প্রতিপক্ষরা সিদ্ধান্ত মানেননি। একপর্যায়ে থানা মামলা না নেওয়ায় তিনি বাদি হয়ে গত ১১ মার্চ আদালতে মামলা করেন। মামলায় আফছার মোড়লসহ ১৯জনকে আসামী করা হয়। বিচারক অর্পিতা আক্তার মামলাটি হাতে পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এজাহার হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। ১৬ মার্চ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলাটি রেকর্ড করে তদন্তভার উপপরিদর্শক মতিন বিশ্বাসের উপর ন্যস্ত করেন। আসামীরা বাদিকে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দিলে আজগার আলী গত ১৯ মার্চ থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। এরপর দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না। ফলে বাদি ও সাক্ষীরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
এ ব্যাপারে আসামী কোরবান আলী গাজী ও কিতাব আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে আফছার আলী মোড়ল বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে মীমাংসা করতে যাওয়ায় তাকে মামলার আসামী করেছে আজগার আলী।
মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মতিন বিশ্বাস বলেন, মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর তিনি ঈদের ছুটিতে চলে যান। ছুটি শেষে তিনি নলতাসহ বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করতে থাকায় এবং মটর সাইকেলের জ্বালানী সংকটের কারণে আসামী ধরার ব্যাপারে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারেননি। খুব শ্রীঘ্রই তিনি আসামীদের গ্রেপ্তারের ব্যপারে উদ্যোগ নেবেন।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
