
নিজস্ব প্রতিনিধি :দীর্ঘ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ থেকে সুন্দরবন মাছ ধরতে রওনা হল জেলেরা । একই সাথে পর্যটকরা ঘুরতে প্রবেশের সুযোগ পেলেন দেশের এই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী ম্যানগ্রোফ বনভূমি সুন্দরবনে। তবে দস্যু আতঙ্ক আর ঋণের বোঝা তাদের আনন্দকে ম্লান করছে বলে জানিয়েছে জেলেরা । এর আগে গত সপ্তাহেই মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি পেয়েছেন সুন্দরবনের দাড়গাং খাল এলাকা থেকে অপহৃত সাত জেলে। জলদস্যুদের হাতে বন্দি থাকার পর বিকাশের মাধ্যমে আড়াই লাখ টাকা পরিশোধের বিনিময়ে ছাড়া পান তারা । ছাড়া পাওয়া জেলেরা হলেন, শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের মীরগাং গ্রামের মো. ইব্রাহিম, পারশেখালির আব্দুল হামিদ, টেংরাখালির সুজিত মুন্ডা, কালিনচির রকিবুল ইসলাম, কেউবাচলির আব্দুস সাত্তারসহ আরও দুজন।পরিবারগুলোর অভিযোগ, মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করলেও অনুনয়-বিনয়ের পর জলদস্যুরা ৩৫ হাজার টাকায় রাজি হয়। সব মিলিয়ে বিকাশে আড়াই লাখ টাকা পরিশোধের পর গত বৃহস্পতিবার রাতে তাদের মুক্তি দেয় দস্যুরা।এদিকে নিষেধাজ্ঞা শেষে বন উন্মুক্ত হলেও জেলেদের মুখে নেই স্বস্তি। ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে এখন মাছ ধরা ও কাঁকড়া আহরণে নামছেন তারা।
বুড়িগোয়ালিনীর ট্রলার মালিক নূর ইসলাম বলেন, তিন মাস ট্রলার পড়ে থাকায় অনেক কিছু নষ্ট হয়ে গেছে। মেরামতের জন্য সমিতি থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। এখন পাস ছাড়ার পর যে টাকা আয় করবো, তা দিয়ে আগে ঋণ শোধ করতে হবে। সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে যাবে।
দাতিনখালির জেলে জাহাঙ্গীর সানা বলেন, সুন্দরবনে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় গত তিন মাসে সুদে টাকা ধার করে সংসার চালাতে হয়েছে। এখন আয় শুরু হলেও প্রথমে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
আব্দুল হামিদ ,সুজিত মুন্ডা সহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, তিন মাস সাধারণ জেলেদের প্রবেশ বন্ধ থাকলেও অসাধু জেলেরা বিষ দিয়ে মাছ ধরেন, হরিণ শিকার করেন। এসব বনবিভাগ দেখেও না দেখার ভান করে থাকে।তারা তাদের অবৈধ অর্থের বিনিময়ে এ সুযোগ দিয়ে থাকেন।তবে দস্যু আতঙ্ক আর ঋণের চাপে জর্জরিত উপকূলের এই মানুষগুলো এখন সুন্দরবনের দিকে তাকিয়ে আছেন তাদের জীবিকার আশায়।
সাতক্ষীরা সুন্দরবন বনবিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক ফজলুর রহমান বলেন, জীববৈচিত্র্য রক্ষার্থে প্রতিবছর জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে মাছ ধরা ও পর্যটক প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়। আজ সোমবার থেকে অনুমতি নিয়ে তারা প্রবেশ করতে পারবেন। তাদের নিরাপত্তা এবং সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে বনবিভাগ সর্বদা প্রস্তুত।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
