Breaking News

ইরানকে অস্ত্র দেবে না চীন

Spread the love

ডেস্ক রিপোর্ট: চীন সফরের প্রথম দিনে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, চীন ইরানকে কোনো সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এই হাই-প্রোফাইল বৈঠককে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছেন ট্রাম্প।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শি জিনপিং দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন যে তিনি ইরানকে অস্ত্র দেবেন না, যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি বড় বক্তব্য। গত ১০ সপ্তাহ ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের আবহে চীনের পক্ষ থেকে তেহরানকে গোপনে অস্ত্র পাঠানোর গুঞ্জন ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সফরের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা ছিল।

বৈঠকের আগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দাবি করেছিল, চীন তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে ইরানকে গোপনে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় শি জিনপিং সেই আশঙ্কা নাকচ করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সামরিক সহায়তার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিলেও ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, চীন ইরানের তেল কেনা অব্যাহত রাখবে এবং এই বিষয়ে তিনি কোনো আপত্তি জানাননি। উল্টো শি জিনপিং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করতে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি বন্ধ করে দিয়েছিল, যা বিশ্ববাজারের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহের পথ।

বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও এই সফর থেকে বড় কিছু অর্জনের দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, চীন ২০০টি বোয়িং জেট কেনার অঙ্গীকার করেছে, যা গত এক দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে চীনের প্রথম কোনো বাণিজ্যিক বিমান ক্রয়ের প্রতিশ্রুতি।

যদিও বিনিয়োগকারীরা আরও বড় কোনো চুক্তির আশা করেছিলেন, যার ফলে বোয়িংয়ের শেয়ার বাজারে কিছুটা পতন লক্ষ্য করা গেছে। এ ছাড়া মার্কিন কৃষকদের স্বস্তি দিতে চীন বিপুল পরিমাণ সয়াবিন ও পোল্ট্রি পণ্য কেনার বিষয়েও একমত হয়েছে বলে ট্রাম্প জানিয়েছেন। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা শিক্ষার্থীদের ভিসার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি শিথিল করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।

তবে এই বাহ্যিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের আড়ালে তাইওয়ান ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। শি জিনপিং অত্যন্ত কড়া ভাষায় ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, তাইওয়ান ইস্যুতে সামান্যতম ভুল পদক্ষেপ অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

এ ছাড়া ইরানকে গোপনে সামরিক প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইট সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে চীনের ভূমিকা নিয়ে ওয়াশিংটনের মনে এখনও সন্দেহ রয়ে গেছে। দুই দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরের প্রথম দিনটি গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ একটি রাজকীয় ভোজসভার মধ্য দিয়ে শেষ হয়, যেখানে ইলন মাস্ক ও টিম কুকের মতো শীর্ষ মার্কিন ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

About dainiksatkhira24

Check Also

মমতার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান সিপিএমের

Spread the love আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ সহ ভারতজুড়ে সমস্ত বিজেপি-বিরোধী শক্তিকে জোরদার করতে বাম ও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com