Breaking News

সোনাপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাস্তার বেহাল অবস্থা

Spread the love

রুকুনুজ্জামান:তিস্তা ক্যানেলের পাশেই অবস্থিত দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বেলাইচন্ডি ইউনিয়নের ব্রক্ষোত্তর সোনাপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত বেহাল। নেই পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, ওয়াশ ব্লক ও সীমানা প্রাচীর। তবুও শতভাগ উপস্থিতি নিয়ে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছে বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০৮ জন। বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে তিস্তা ক্যানেল ঘেঁষে প্রায় আধা কিলোমিটার লালমাটির কাদা রাস্তা এবং পূর্ব পাশে চার ফুট প্রশস্ত কাঁচা রাস্তা মাড়িয়ে দোলাপাড়া, ডাঙ্গাপাড়া, ব্রক্ষোত্তর ও সোনাপুকুর গ্রামের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন স্কুলে আসে।
বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী জোবায়েদ (৯), রোল নং-১০ জানায়, বৃষ্টির দিনে স্কুলে আসতে গিয়ে প্রায়ই পা পিছলে পড়ে যেতে হয়। আহত হয়ে অনেক সময় এক-দুই দিন স্কুলে আসা বন্ধ থাকে। একই কথা জানায় ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান অনিক (১০), রোল নং-৫। সে বলে, “কাদায় পড়ে জামাকাপড় নষ্ট হলে সেদিন আর স্কুলে আসতে পারি না।” আরেক শিক্ষার্থী তাহসিন রোমান (১০), রোল নং-১৮ জানায়, বিদ্যালয়ে ওয়াশ ব্লক না থাকায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। এছাড়া শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে গাদাগাদি করে ক্লাস করতে হচ্ছে।
জানা যায়, ১৯৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ২০১৬ সালে একতলা বিশিষ্ট একটি ভবন পেলেও এরপর আর তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি।
গত বুধবার (৬মে) বিকেলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিরিন নাহার বেগম বলেন, বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে তিস্তা ক্যানেল ঘেঁষা কাদা রাস্তা এবং পূর্ব পাশের সরু কাঁচা রাস্তা দিয়ে শিক্ষার্থীদের কষ্ট করে স্কুলে আসতে হয়। বিষয়টি বহুবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, কিন্তু এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা হয়নি। তিনি আরও জানান, পহেলা বৈশাখের রাতে সোনাপুকুর তিস্তা ক্যানেল এলাকা থেকে দুই খুঁটির বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়। পরে গত ৩০ এপ্রিল আবারও বিদ্যালয় থেকে দুই খুঁটির বিদ্যুতের তার চুরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের টেবিল, বারান্দা ও দেয়ালে সারি সারি ফুলের টব সাজানো রয়েছে। সেখানে অ্যালোভেরা, পাতাবাহার, গোলাপ, ক্যাকটাস, সন্ধ্যামালতি, নয়নতারা, বেলি, রঙ্গন ও দোলনচাঁপাসহ নানা গাছের সমাহার রয়েছে। বিদ্যালয়ে নিয়মিত অ্যাসেম্বলি, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক ও মাসিক পরীক্ষা, মা সমাবেশ, হোম ভিজিট এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা পাঠদানের ব্যবস্থাও রয়েছে।
শতভাগ উপস্থিতির বিষয়ে প্রধান শিক্ষক শিরিন নাহার বেগম বলেন, সময় মেনে ক্লাস পরিচালনা, অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর খোঁজ নেওয়া, অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নেওয়ার কারণেই উপস্থিতি ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। অভিভাবকরাও সন্তানদের স্কুলে আনা-নেওয়া করেন।
এ বিষয়ে পার্বতীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. এনামুল হক সরকার বলেন,
বিদ্যালয়টি খুব ভালো করছে। শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি সত্যিই প্রশংসনীয়। আগামী জুলাইয়ে পিডিপি-৫ প্রকল্প চালু হলে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, ওয়াশ ব্লক ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ করা হবে। এছাড়া রাস্তার বিষয়ে এলজিইডির সঙ্গে কথা বলা হবে।

About dainiksatkhira24

Check Also

যান্ত্রিক ত্রুটিতে বন্ধ বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

Spread the loveরুকুনুজ্জামান:দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com