
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা গ্রহণ করতে নারাজ রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমান আকারে এই প্রস্তাব মস্কোর জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। খবর ডয়চে ভেলে।
রাশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিয়াবকভ বলেন, ‘আমরা মার্কিন প্রস্তাব খুব ভালোভাবে পর্যালোচনা করেছি। তবে এতে রাশিয়ার উদ্বেগের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যে কারণগুলোর জন্য এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, সেগুলোর প্রতিফলন প্রস্তাবে নেই।’
গত সপ্তাহের শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুতিনের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘যদি রাশিয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব না মানে, তবে মস্কোর তেলের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।’
এদিকে ইউক্রেনকে ৩৫০ কোটি ইউরো সহায়তা দিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন (ইইউ)। এর মধ্যে ৩১০ কোটি ইউরো সহজ শর্তের ঋণ এবং ৪০ কোটি ইউরো অনুদান।
এই সহায়তা ইইউ-এর ইউক্রেন ফ্যাসিলিটি প্রোগ্রামের অংশ, যার অধীনে ২০২৭ সাল পর্যন্ত ইউক্রেনকে ৫,০০০ কোটি ইউরো সহায়তা দেওয়া হবে।
কিয়েভ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তারা ১,৬০০ কোটি ইউরো সহায়তা পেয়েছে, যা রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করা হবে।
২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকেই রাশিয়ার বিপুল সম্পদ ফ্রিজ করেছে সুইজারল্যান্ড।
সাম্প্রতিক তথ্যানুসারে, ৩১ মার্চ পর্যন্ত রাশিয়ার ৮৪০ কোটি ডলারের সম্পদ ফ্রিজ করা হয়েছে। এক বছরে নতুন করে আরও ১৮০ কোটি ডলার চিহ্নিত করে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
ফ্রিজ করা সম্পদের মধ্যে রয়েছে— রিয়েল এস্টেট, বিলাসবহুল গাড়ি, মূল্যবান শিল্পকর্ম।
সুইজারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য না হলেও ইইউ-এর রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে পুরোপুরি সমর্থন করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক অবরোধ রাশিয়ার ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে, তবে যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে মস্কোর অবস্থান কতটা পরিবর্তন হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
