
শ্যামনগর প্রতিনিধি:
সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করা, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় বন্ধ এবং জেলে-বাওয়ালিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ভেটখালী ও কৈখালী মাদার নদীর সেতুর ওপর আয়োজিত এ মানববন্ধনে হাজারো জেলে, বাওয়ালি ও স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সুন্দরবন উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন। মাছ ও কাঁকড়া আহরণসহ বনজ সম্পদ সংগ্রহ করে হাজারো পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু বনদস্যুদের অপতৎপরতা, জেলে-বাওয়ালিদের অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় সুন্দরবনকেন্দ্রিক মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। জীবিকার তাগিদে বনে গিয়েও তাঁদের প্রতিনিয়ত জীবনহানির ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত অভিযান জোরদার করতে হবে। অপহৃত জেলেদের দ্রুত উদ্ধার, মুক্তিপণ আদায় বন্ধ এবং বনদস্যুদের দমনে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকা আরও হুমকির মুখে পড়বে।
আয়োজক কমিটির পক্ষে মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন রমজাননগর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি, বর্তমান আহ্বায়ক ও চেয়ারম্যান প্রার্থী শহিদুজ্জামান শহিদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বনদস্যু নির্মূল কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও সাতক্ষীরা জেলা কৃষক দলের নেতা সালাউদ্দিন লিটন।
এ সময় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও চেয়ারম্যান প্রার্থী গাজী শাহ-আলম, ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম লিটন, জেলেদের প্রতিনিধি আব্দুল গণি ওরফে টাইগার গণি, শফিকুল ইসলাম এবং উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল হালিমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তাদের মধ্যে আব্দুল গণি ওরফে টাইগার গণি বাঘের সঙ্গে লড়াই করে এবং বাঘের মুখ থেকে জেলেদের উদ্ধারের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী জেলে ও বাওয়ালিরা নিরাপদে সুন্দরবনে যাতায়াত, নির্বিঘ্নে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ এবং বনদস্যুদের অপতৎপরতা বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। তাঁরা বলেন, সুন্দরবন শুধু বনজ সম্পদের আধার নয়, এটি উপকূলীয় হাজারো পরিবারের বেঁচে থাকার অবলম্বন। তাই জেলে-বাওয়ালিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
