
রঘুনাথ খাঁ ঃ মায়ের ধারালো কাস্তের আঘাতে এক মাদকাসক্ত ভ্যান চালক ও শিয়াল মারার জন্য ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে এক মাদক ব্যবসায়ির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাত ১০টার দিকে সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ি ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের আকরাম গাজীর সবজি খেত থেকে সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ ওই দুটি লাশ উদ্ধার করে।
নিহতরা হলেন, তালা উপজেলার আটারই আব্দুল্লাহ মোড়লের ছেলে ভ্যানচালক হাবিবুর রহমান(৩০) ও শ্যামনগর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের ইয়াকুব আলীর গাজীর ছেলে ইকবাল গাজী (৩৯)। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত হাবিবুর রহমানের মা পারুল বেগম (৫০)কে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
তালা উপজেলার আটারই গ্রামের পারুল বেগম জানান, তিনি মেয়ে সুমাইয়াকে খর্ণিয়াতে বিয়ে দেওয়ার পর থেকে জন মুজুর খেটে দিন চালান তিনি। তার ছেলে ভ্যানচালক হাবিবুর রহমান একজন মাদকাসক্ত। সে কারণে তাকে বিয়ে দেওয়া যাচ্ছিল না। একপর্যায়ে দুই বছর আগে দক্ষিণ আটারই গ্রামের শান্তা খাতুনের সঙ্গে ছেলের বিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে তাদের ১০ মাসের একটি শিশু সন্তান আছে। এক বছর আগে ছেলে হাবিবুর রহমান তার গলায় দা ঠেকিয়ে ১৪ শতক জমি এক লাখ ৬ হাজার টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য করে। নেশা করে সে ওই টাকা নষ্ট করার পর তার কাছ থেকে ও শ^শুর বাড়ি থেকে মটর সাইকেল দেওয়ার জন্য স্ত্রী শান্তার উপর চাপ সৃষ্টি করছিলো।
পারুল বেগম আরো জানান, সোমবার রাত ৯টার দিকে হাবিবুর রহমান ভ্যান চালিয়ে বাড়ি ফেরে। এ সময় বিদ্যুৎ ছিল না। এ সময় সে স্ত্রী ও তার কাছে একটি মটর সাইকেল কেনার টাকা চায়। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় একটি ধারালো ধান কাটার কাজে ব্যবহৃত কাস্তে নিয়ে তাকে ও শান্তাকে মারতে আসে। জীবন বাঁচাতে ধাক্কা ধাক্কির এক পর্যায়ে হাবিবুর মাটিতে পড়ে গেলে তার হাতে থাকা কাস্তে কপালে ও গলায় লাগে। তিনি ও পুত্রবধু শান্তা রাত ১০টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরে হাসপাতাল থেকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদেরকে আটক করে।
সুমাইয়া খাতুন জানান, তার মাদকাসক্ত ভাইয়ের হাত থেকে বাঁচতে মা পারুল বেগমকে জেলে যেতে হলো।
তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ খালিদ হাসান নয়ন জানান, হাবিবুর রহমানের কপালে ও গলার নীচে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাঈনুদ্দিন জানান, নিহত হাবিুরের কপালে ও গলার নীচে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নিহতের মা পারুল বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হাবিবুরের লাশের ময়না তদন্তের জন্য মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শান্তা খাতুন বাদি হয়ে তার শাশুড়ি পারুল বেগমের নাম উল্লেখ করে মঙ্গলবার সকালে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।
এদিকে শ্যামনগর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের আব্দুল্লাহ গাজীর ছেলে আকরাম গাজী জানান, শিয়াল ও চোরের উপদ্রব থেকে বাঁচতে তিনি সবজি খেতে বৈদ্যুতিক তার টানিয়ে রাখেন। স্থানীয় ইয়াকুব আলী গাজীর ছেলে মাদক ব্যবসায়ি ইকবাল গাজী (৩৯) ওই তারে জড়িয়ে মরে পড়ে আছে মর্মে জানতে পেরে তিনি পুলিশে খবর দেন। একপর্যায়ে সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। মৃত ইয়াকুবের বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় তিনটি মাদক মামলা রয়েছে।
গোবিন্দপুর গ্রামের আব্দুল আলীম ওরফে কারেন্ট আলীম জানান, তার ভাই ইয়াকুব গাজীকে রবিবার রাত থেকে পাওয়া যাচ্ছিল না। সোমবার সকালে ভাই আকরাম গাজীর সবজি খেতে টানিয়ে রাখা বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে মারা গেছে মর্মে জমির মালিক রবিবার রাতে থানায় যেয়ে অবহিত করে। সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ ওই লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। মৃতের শরীরের বাম পায়ের রগ কাটা ছিল। তার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতা মফিজুল ঢালী বলেন, আকরাম গাজী গত ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আনিছুজ্জামানের ভাই। ইকবালকে খুন করার হয়েছে মর্মে দাবি করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের কতিপয় নেতা বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে আকরাম গাজীকে হত্যা মামলা থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে ইকবাল গাজীর মৃত্যু হয়েছে মর্মে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ইকবালের লাশের ময়না তদন্তের জন্য মঙ্গলবার সকালে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
