
নিজস্ব প্রতিনিধি: সমিতির গ্যারান্টার হিসেবে চেক দিয়ে বিপাকে পড়েছে আব্দুস
সালাম নামে এক ব্যক্তি। এমনই অভিযোগ উঠেছে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের পাশে নোভা
ডায়াগণষ্টিকের স্বত্তাধিকারী জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে। ভূক্তভোগী ব্যক্তি কালিগঞ্জ উপজেলার
কালিকাপুর গ্রামের মৃত নবাবদী গাজীর ছেলে আব্দুস সালাম।
আব্দুস সালাম এ প্রতিনিধিকে জানায়, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের পাশে নোভা
ডায়াগণষ্টিকের স্বত্তাধিকারী জিয়াউর রহমানের সাথে আমার সুসম্পর্ক থাকার সুবাদে তার
আর্থিক প্রয়োজনে ২০১৮ সালে বিভিন্ন সমিতির গ্যারান্টার হিসেবে আমি চেক প্রদান
করি।
সমিতির টাকা পরিশোধের পরও সে আমাকে চেক ফেরত না দিয়ে বিভিন্ন ভাবে তালবাহানা
করতে থাকে। হঠাৎ আমি জানতে পারি আমার নামে আদালতে অন্য একজন ব্যক্তি একটি চেকের
মামলা করেছে। খোঁজ নিয়ে জানতে পারি সাতক্ষীরা শহরের সার্কিট হাউজের পাশে অবসরপ্রাপ্ত
সেনা সদস্য রেজাউল করিমের কাছে ওই চেক বিক্রয় করা হয়েছে। তার সাথে যোগাযোগ করা হলে
রেজাউল করিম জিয়ার কাছ থেকে চেক প্রদানের সকল কথা খুলে বলে (যার সকল কল রেকর্ড এ
প্রতিনিধির কাছে সংরক্ষিত আছে)। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারীর
মধ্যে ৭৫ হাজার টাকা জমা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে আব্দুস সালাম জামিন নেন। এখনও
কয়েকটি চেক উদ্ধারে প্রতারক জিয়ার কাছে ধর্ণা দিচ্ছি।
জিয়ার সাথে চেক ফেরতের ব্যাপারে যোগাযোগ করেন আব্দুস সালাম। এসময় জিয়াউর রহমান
তার কাছে ৩০ লাখ টাকা দাবী করেন। ওই টাকা দিলে তার চেক ফেরত দেবেন বলে সাফ জানিয়ে দেন।
এখন বিপাকে পড়ে চেক উদ্ধারে বিভিন্ন দ¦ারে দ্বারে ঘুরছে ভূক্তভোগী আব্দুস সালাম।
ভুক্তভোগী আব্দুস সালাম জানান, মামলার কারণে সামাজিকভাবেও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে
পড়তে হয়। তিনি বলেন, প্রতারক জিয়াকে “উপকার করতে গিয়ে এমন পরিস্থিতিতে পড়ব, তা
কখনও কল্পনাও করিনি। গ্যারান্টার হওয়া যে এত বড় ঝুঁকি, তা এই ঘটনার মধ্য দিয়েই বুঝতে
পেরেছি।” আপাতত আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি মিললেও আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক
চাপ এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি তিনি।
এব্যাপারে নোভা ডায়াগণষ্টিক সেন্টারের স্বত্তাধিকারী জিয়াউর রহমান ঘটনা অস্বীকার করে
বলেন, তার চেক আমার কাছে এখনও আছে। আমি কারো কাছে সালামের কোন চেক বিক্রয়
করিনি। তার চেক তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
এব্যাপারে ভূক্তভোগী আব্দুস সালাম ওই চেক উদ্ধারে সেনাবাহিনী ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ
কামনা করেছেন।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
