
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পশ্চিমবঙ্গ সহ ভারতজুড়ে সমস্ত বিজেপি-বিরোধী শক্তিকে জোরদার করতে বাম ও অতিবাম দলগুলোকে নিয়ে একটি যৌথ মঞ্চ গড়ার ডাক দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সিপিএম সরাসরি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনযায়ী, তৃণমূল নেত্রীর প্রস্তাব পত্রপাঠ খারিজ করে রাজ্যের সিপিএম সম্পাদক মহম্মদ সেলিম স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘না, একদম না।’
এতে বিজেপি বিরোধী বৃহত্তর মঞ্চ তৈরির সম্ভাবনা শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এর আগে শনিবার (৯ মে) ব্রিগেড ময়দানে পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেওয়ার দিনেই বড় ঘোষণা দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা।
নিজের বাড়ির সামনে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালনকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিজেপিকে রুখতে জাতীয় স্তরের ‘ইন্ডিয়া’ জোটের আদলে রাজ্যেও সব বিরোধী শক্তির এক হওয়া প্রয়োজন।
এমনকি যারা একসময় ঘোর বিরোধী ছিল, সেই বাম ও অতিবামদেরও এই লড়াইয়ে শামিল হওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে এই বামদের সরাতেই তিনি কংগ্রেসের হাত ধরেছিলেন, আর ২০২৬-এ বিজেপি ক্ষমতায় আসায় সেই বামেদেরই আবার পাশে চাইছেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিতে নারাজ সিপিএম।
দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেছেন, কোনো অপরাধী, তোলাবাজ বা দুর্নীতিগ্রস্ত শক্তির সঙ্গে তারা জোটে যাবেন না। সামাজিক যোগয়াযো গণমাধ্যমে লিখিত বিবৃতি দিয়ে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন ‘না। একদম না।’ সেলিম বলেন, তৃণমূলের দুর্নীতির ইতিহাস বিচার করেই তারা এই সিদ্ধান্তে অটল।
সিপিএমের তরুণ প্রজন্ম ও প্রাক্তন ছাত্রনেতারাও এই অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। সিপিএম নেতৃত্বের স্পষ্ট বক্তব্য, বিজেপির বিরোধিতা করতে গিয়ে তারা কারো হাত ধরবে না, বরং একাই লড়াই চালিয়ে যাবে।
তৃণমূলনেত্রীর এই প্রস্তাবের সমালোচনা করেছেন প্রাক্তন টিএমপিসি নেতা সুপ্রিয় চন্দও। সব মিলিয়ে নতুন সরকার শপথ নেওয়ার দিনেই রাজ্যের বিরোধী দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব আরো স্পষ্ট হয়ে উঠল।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
