তালায় পল্লী বিদ্যুতের মালামাল উদ্ধার

Spread the love

জহর হাসান সাগর: তালা উপজেলার দক্ষিণ নলতা এলাকার হাফিজুর রহমানের বাড়ি থেকে পল্লী বিদ্যুতের তার ও বিভিন্ন হার্ডওয়্যার সামগ্রী উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাফিজুরকে ‘চোর’ আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন ভিডিও ও পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঘটনাটি সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করে হাফিজুর রহমান বলেছেন, ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও লেনদেনের বিরোধকে কেন্দ্র করেই তাকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে হেয় করা হচ্ছে।
ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও লেনদেন
হাফিজুর রহমান, পিতা দলির উদ্দীন খাঁ, গ্রাম নলতা, খলিলনগর, তালা—স্থানীয়ভাবে ঠিকাদারি কাজের সঙ্গে যুক্ত। তার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িকভাবে কাজ করে আসছেন যশোরের কেশবপুর উপজেলার ভান্ডারখোলা এলাকার হুমায়ুন কবীর (পিতা: আঃ রশিদ সরদার)।
বাংলাদেশ বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতায় যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিভিন্ন কাজ পেয়ে থাকেন হুমায়ুন কবীর। এসব কাজের প্রকল্প লিখিত চুক্তির মাধ্যমে সাব–কন্ট্রাক্ট হিসেবে যশোরের ৪৪ লক্ষ টাকার কাজ নগদ ৮ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে কাজ হুমায়ুন কবীর হাফিজুর এর কাছে ৩ লক্ষ টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি সহ বিক্রি করে দেন।
হাফিজুরের দাবি, চুক্তি অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করলেও হুমায়ুন কবীরের কাছে প্রায় দেড় কোটি টাকা তিনি পাওনা রয়েছেন। পাওনা পরিশোধে হুমায়ুন একটি চেক দিলেও ব্যাংক একাউন্টে টাকা না থাকায় সেটি ডিজঅনার হয়। বিষয়টি নিয়ে হাফিজুর আদালতে মামলা করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন।
উদ্ধার হওয়া মালামাল সম্পর্কে দাবি হাফিজুর রহমান বলেন – “আমি যে কাজগুলো করেছি, সেগুলোর মালামাল আমার হেফাজতেই ছিল। কাজ শেষে মালগুলো আমি বাড়িতে এনে রেখেছি । এগুলো কোনো চুরি করা মালামাল নয়। আমাকে ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার করা হচ্ছে।”

এই ঘটনায় আরেক ভুক্তভোগী সাব–কন্ট্রাক্টের মো. তবিবুর রহমান তিনি বলেন—“হুমায়ুন কবীর স্থানীয়ভাবে কোনো রাজনৈতিক পদে না থাকলেও আওয়ামী লীগ পরিচয় ব্যবহার করে বহু মানুষের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে অসঙ্গতি করেছেন। সাব–কন্ট্রাক্টের নামে অনেক ঠিকাদারের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ বহুদিন ধরে শুনে আসছি।”
তিনি আরও বলেন—
“আমি নিজেও তার করা হয়রানিমূলক মামলার শিকার হয়েছিলাম। পরে আদালতে আমার পক্ষে রায় হয়। একই ধরনের কৌশলে এবার হাফিজুর রহমানকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে আমার বিশ্বাস।”

তালা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মাইনউদ্দিন জানান—“হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক লেনদেনের বিষয় রয়েছে। হাফিজুর বলছেন— কাজের মালামাল তিনি বাড়িতে এনেছেন। উদ্ধার করা মালামাল থানায় রাখা হয়েছে। দু’পক্ষকে নিয়ে বসে যার মালামাল, তাকে যাচাই–বাছাই করে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।”

About dainiksatkhira24

Check Also

তালায় স্বাগতা ক্লিনিকে সিভিল সার্জনের অভিযানে প্যাথলজি সিলগালা

Spread the loveতালা প্রতিনিধি: তালা উপজেলার পাটকেলঘাটায় অবস্থিত ‘স্বাগতা ক্লিনিক’ এ ভুয়া প্যাথলজিস্ট দিয়ে ল্যাব …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com