Breaking News

কেশবপুরে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে ব্যাংক ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ, প্রশাসনে লিখিত অভিযোগ শিক্ষকদের

Spread the love

জেমস আব্দুর রহিম রানা:

যশোরের কেশবপুর উপজেলার গড়ভাঙ্গা ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসার সাবেক সুপারিনটেনডেন্টের বিরুদ্ধে জামিনদারের স্বাক্ষর জাল করে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক থেকে ঋণ উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার দুই শিক্ষক প্রশাসন ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় শিক্ষা অঙ্গনে চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অভিযোগকারীরা হলেন গড়ভাঙ্গা ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী সুপার মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ এবং সহকারী শিক্ষক প্রভাত কুমার দেবনাথ। তারা কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং রূপালী ব্যাংক পিএলসি কেশবপুর ও পাঁজিয়া বাজার শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাবর একটি লিখিত অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, মাদ্রাসার তৎকালীন সুপার মোহাম্মদ রিজাউল ইসলাম অভিযোগকারী দুই শিক্ষককে জামিনদার হিসেবে দেখিয়ে তাদের অজ্ঞাতে ও অনুমতি ছাড়া স্বাক্ষর জাল করেন। ওই জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে তিনি ২০২৩ সালের মার্চ মাসে রূপালী ব্যাংকের পাঁজিয়া বাজার শাখা থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ঋণ উত্তোলন করেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে তারা এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। সম্প্রতি ব্যাংক সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় বিষয়টি তাদের নজরে আসে। পরে নিশ্চিত হয়ে তারা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগেও ওই সাবেক সুপারের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ছিল। মাদ্রাসার টিউশন ফি বাবদ প্রায় ২ লাখ ৬৬ হাজার ১০০ টাকা আত্মসাৎ, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৯ লাখ ৫১ হাজার ৫০০ টাকা গ্রহণসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তিনি বিতর্কিত হয়ে ওঠেন। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে গত ১৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তীতে ছয়টি অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি রেকসোনা খাতুন গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তাকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করেন।
জামিনদার হিসেবে নাম ব্যবহার হওয়া দুই শিক্ষক জানান, ব্যাংক ঋণ উত্তোলনের বিষয়টি তাদের সম্পূর্ণ অজানা ছিল এবং তাদের স্বাক্ষর জাল করে ঋণ নেওয়া একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের শামিল। তারা বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্র জানায়, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তদন্তে যদি জামিনদারের স্বাক্ষর জালিয়াতির সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাঁজিয়া বাজার রূপালী ব্যাংক শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার ও ব্যবস্থাপক মেহেদী হাসান জানান, অভিযোগকারী দুই শিক্ষক ব্যাংকে এসে লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে ঋণ ফাইলে ব্যবহৃত জামিনদারের স্বাক্ষর তাদের নয়। ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক সুপার মোহাম্মদ রিজাউল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে এটি শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য একটি উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত হবে। তারা দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

About dainiksatkhira24

Check Also

সাতক্ষীরায় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ফাইনাল খেলা 

Spread the loveনিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় জেলা পর্যায়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট বালক ও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com