Breaking News

কালিগঞ্জে মব সৃষ্টির মাধ্যমে সুমাইয়া হত্যা গ্রেপ্তারকৃত তিনজনকে রিমাণ্ডের আবেদন

Spread the love

রঘুনাথ খাঁ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কাজলা –
কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ও
কাশিবাটি গ্রামের এনামুল হকের মেয়ে ফারজানা সুলতানা হত্যার
ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সুমাইয়াকে মব সৃষ্টির মাধ্যমে নৃশংসভাবে
হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত তিনজনের প্রত্যেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য
আদালতে সাত দিন করে রিমাণ্ড আবেদন জানানো হয়েছে। রবিবার
মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মল্লিক
মনিরুজ্জামান এ আবেদন জানান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, কালিগঞ্জ উপজেলার কাশিবাটি গ্রামের মৃত মীর
মহসিন আলীর ছেলে মীর আব্দুস সামাদ (৪০), একই গ্রামের মনিরউদ্দিন
খানের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান (৪৫) ও নওয়াপাড়া গ্রামের সিরাজুল
ইসলামের ছেলে শিমুল হোসেন (৩২)।
মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক
মনিরুজ্জামান মল্লিকের আদালতে রিমাণ্ড আবেদন থেকে জানা যায়,
কাশিবাটি গ্রামের সুমাইয়া খাতুন হত্যা মামলায় পুলিশ শুক্রবার ও
শনিবার কাশিবাটি গ্রামের মীর আব্দুস সামাদকে, নওয়াপাড়া
গ্রামের শিমুল হোসেনকে ও কাশিবাটি গ্রামের মোস্তাফিজুর
রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদেরকে শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে
জেল হাজতে পাঠানো হয়। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রবিবার আদালতে
সাত দিনের রিমাণ্ড আবেদন করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল হোসেন জানান, কারাগারে
অবস্থান করা সামাদ শিমুল ও মোস্তাফিজুরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য
মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সাত দিন করে রিমাণ্ড আবেদদন জানালেও

মামলার নথি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে থাকায় শুনানীর দিন নির্ধারণ করা
যায়নি। নথি পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, কাজলা-কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয়
শ্রেণীর ছাত্রী ফারজানা খাতুনের হাত ও পা বাঁধা লাশ কাশিবাটি
গ্রামের আমিরুল ইসলামের দেয়াল আলমারির ভিতর থেকে উদ্ধার করা হয়। এ
ঘটনায় নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা পুলিশের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে
আমিরুলের স্ত্রী সুমাইয়া খাতুনকে ইট দিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে
থেঁতলে নৃশংসভাবে হত্যা করে। ফারজানা হত্যার ঘটনায় তার মা নাজমা
খাতুন বাদি হয়ে ২২ জুলাই নিহত সুমাইয়া খাতুনের ভাই আল
আমিনের নাম উল্লেখ করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। আল আমিন
বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে। এ ছাড়া ২৫ জুলাই সুমাইয়ার স্বামী
আমিরুল ইসলাম বাদি হয়ে করো নাম উল্লেখ না করে থানায় একটি
হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরদিন সুমাইয়ার বাবা লতিফ শেখ বাদি হয়ে
হামিদুল মোড়ল ও হুসাইন খানসহ আট জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে
একটি মামলা(সিআর-৬২১/২৬ কালিঃ) দায়ের করেন। গত ১১ সেপ্টেম্বর
সুমাইয়া হত্যা মামলায় পুলিশ কাশিবাটি গ্রামের নূর ইসলাম মীর ও
আরিফুল ইসলমকে গ্রেপ্তার করে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে
সাত দিনের রিমাণ্ড আবেদন জানান। তবে হত্যা কাণ্ডের মূল হোতা
হামিদুল মোড়ল ও হুসাইন খানসহ আটজনের কোন আসামীকে
গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

About dainiksatkhira24

Check Also

প্রবাসীদের সংকট নিরসনে বিশেষ আদালত গঠন করা হবে : আইনমন্ত্রী

Spread the loveডেস্ক রিপোর্ট: প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন আইনি জটিলতা, বিরোধ ও সংকট দ্রুত নিরসনে একটি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com