
রঘুনাথ খাঁ:
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মাদরা গ্রামের তুষার কান্তি রায় এর আদালতে দাখিলকৃত চাঁদাবাজি, মাছ লুটপাট, ভাংচুর ও মারপিটের মামলাটি এফআইআর হিসেবে গন্য করার আদেশ পেয়েই আগে আসামী আঞ্জুয়ারার দায়েরকৃত মিথ্যা অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করার অভিযোগ উঠেছে তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বিরুদ্ধে| এমনকি আসামীর দায়েরকৃত মামলার আসামীদের ধরতে দৌড়ঝাপ শুরু করলেও তুষার রায় এর আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ|
গত ১৩ এপ্রিল সাতক্ষীরার আমলী আদালত-৩ এ তুষার কান্তি রায় এর দায়েরকৃত মামলা থেকে জানা যায়, প্রকৃত মালিকের কাছ থেকে ২০১৪ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত লীজ ও ডিড নিয়ে মাদরা গ্রামে একটি ঘেরে মাছ চাষ ও ধান চাষ করে আসছিলেন তুষার কান্তি রায়| মঙ্গলানন্দকাটি গ্রামের আব্দুস সামাদ মল্লিকের স্ত্রী আঞ্জুয়ারা চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি ওই জমি জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা করলে তুষার বাদি হয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্রেট আদালতে (পিটিশন-১১১/২৬ তালা) মামলা করেন| এরপরও আঞ্জুয়ারাসহ আটজন গত ২৭ মার্চ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ওই মাছের ঘেরে ঢুকে ঘের করত হলে বাদিকে মাসিক এক লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে জানায়| একপর্যায়ে তারা দুই লাখ টাকার গলদা চিংড়ি ছাড়াও পৌনে দুই লাখ টাকার অন্যান্য মাছ লুট করে| ভাংচুর করে ঘেরের বাসা, গইসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র| মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন বিচারক শফিকুল ইসলাম| এ সংক্রান্ত আদেশটি ১৭ এপ্রিল তালা থানায় পৌঁছায়| থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম হাওলাদার ওইদিনই ১০ নং মামলা হিসেবে রেকর্ড করেন|
এদিকে ২০২৬ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত মঙ্গলানন্দকাটি গ্রামের আব্দুস সামাদ মল্লিকের স্ত্রী আঞ্জুয়ারা তার ননদের ছেলে ও মেয়ের কাছ থেকে লীজ ও ডিড নিয়ে ২৭ মার্চ সকালে ঘেরে মাছ চাষ করতে গেলে তুষার কান্তি রায় ও নিশান কান্তি রায় তাকে মারপিট করে তাড়িয়ে দেয় মর্মে ১৭ এপ্রিল তালা থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন| মামলাটি ওই দিন ৯ নং মামলা হিসেবে তুষারের মামলার আগেই রেকর্ড করা হয়|
তুষার কান্তি রায়ের অভিযোগ, তার দায়েরকৃত মামলাটি পরে ও আঞ্জুয়ারার দায়েরকৃত মিথ্যা এজাহারটি আগে রেকর্ড করা হয়েছে| পুলিশ তার দায়েরকৃত মামলার আটজন আসামীর একজনকে গ্রেপ্তার করতে না পারলেও আঞ্জুয়ারার মামলার আসামী হিসেবে তাকে ধরার জন্য নিরলস চেষ্টা চালাচ্ছে|
এ ব্যাপারে তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি| তবে তুষারের দায়েরকৃত মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা হেমায়েত হোসেন জানান, তদন্ত সাপেক্ষে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আঞ্জুয়ারার মামলা রেকর্ড করা হয়েছে| তবে দুটি মামলার আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে|
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
