যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া আর্থিক সহায়তা বন্ধের আশঙ্কায় ইসরায়েল

Spread the love

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের জনপ্রিয়তা দ্রুত হ্রাস পাওয়াকে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছে ইসরায়েলি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ’ (আইএনএসএস)।

সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদী সমর্থন বজায় রাখতে হলে ইসরায়েলকে এই জনমত পরিবর্তনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন জনসাধারণের মধ্যে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব যদি আমূল পরিবর্তন না হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে ইসরায়েল বড় ধরনের কৌশলগত সংকটে পড়তে পারে। মিডল ইস্ট আইয়ের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগের চিত্র ফুটে উঠেছে।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক জনমত জরিপের বরাতে আইএনএসএস জানিয়েছে, বর্তমানে ৬০ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের কাছে ইসরায়েল একটি নেতিবাচক দেশ যা গত বছরের ৫৩ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিশেষ করে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণ আমেরিকানদের মধ্যে ৭৫ শতাংশই ইসরায়েলকে নেতিবাচকভাবে দেখে।

এমনকি ৩০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ৬৭ শতাংশ। রাজনৈতিক বিভাজনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ৮০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ৪১ শতাংশ রিপাবলিকান ইসরায়েলের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করেন। এমনকি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত শ্বেতাঙ্গ ইভানজেলিকাল খ্রিস্টানদের মধ্যেও ৫০ বছরের কম বয়সীদের অর্ধেকই এখন ইসরায়েলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

ইসরায়েলি এই থিঙ্ক ট্যাঙ্ক মনে করছে, গাজায় চলমান পরিস্থিতি এবং বর্তমান ইরান যুদ্ধ এই জনমত ধসের প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ এবং রাজনীতিবিদদের একটি বড় অংশ মনে করছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থে এই যুদ্ধগুলো উসকে দিয়েছেন।

এমনকি মার্কিন ইহুদিদের মধ্যেও ইসরায়েলের প্রতি সহানুভূতি কমছে; জে স্ট্রিটের এক জরিপ অনুযায়ী ৭০ শতাংশ মার্কিন ইহুদি ইসরায়েলকে শর্তহীন সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিরোধী। মার্কিন সিনেটে সম্প্রতি ইসরায়েলের কাছে বোমা ও সামরিক বুলডোজার বিক্রি বন্ধের প্রস্তাব বিপুল ভোটে পরাজিত হলেও, রেকর্ড সংখ্যক ডেমোক্র্যাট সদস্য এই বিক্রির বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন, যা ইসরায়েলের জন্য একটি অশনিসংকেত।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে মার্কিন জনগণের কাছে রাশিয়া, ইরান ও চীনের মতো শত্রু দেশগুলোর পরেই ইসরায়েল সবচেয়ে অজনপ্রিয় দেশ হিসেবে তালিকায় স্থান পেয়েছে। আইএনএসএস সতর্ক করেছে, ইসরায়েলি সরকারের নীতিতে পরিবর্তন না এলে এই নেতিবাচক ভাবমূর্তি স্থায়ী রূপ নিতে পারে।

যদিও ইসরায়েলি নেতারা বর্তমানে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিচ্ছেন যেমন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ যুদ্ধবিরতির মধ্যেও লেবাননে পূর্ণ শক্তিতে অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন, তবে থিঙ্ক ট্যাঙ্কটি মনে করে এই ধরনের সামরিক উগ্রপন্থা ভবিষ্যতে মার্কিন সমর্থন পুনরুদ্ধারের সব পথ বন্ধ করে দিতে পারে। ১৯৪৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের এই সমর্থন হারালে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে পড়বে বলে প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

About dainiksatkhira24

Check Also

রাশিয়ায় ১০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে উত্তর কোরিয়া

Spread the loveডেস্ক রিপোর্ট: রাশিয়ার ভূখণ্ডে ইতোমধ্যে ৮ হাজারের বেশি উত্তর কোরীয় সেনা অবস্থান করছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com