
রায়হান সিদ্দিকী : নেই পত্রিকা নেই টেলিভিশন তবুও নামসর্বস্ব লোগে হাতে দাড়িয়ে ফেসবুকে নিউজ সম্প্রচার করছে একদল কথিত হলুদ সাংবাদিক। ফেসবুক সম্প্রচারটি দেখা যাবে কোন টেলিভিশন অথবা পত্রিকার মাল্টিমিডিয়াশ নয়। শুধুমাত্র ওই হলুদ সাংবাদিকের নিজস্ব আইডি অথবা নাসর্বস্ব অনলাইন পেজে এটা দেখতে পাবেন। যার বিনিময়ে দিতে হবে ৫০০-থেকে ২০০০ টাকা। মানুষ সমস্যায় পড়ে গণমাধ্যম সংবাদ পরিবেশন করতে বিপাকে পড়ছে হলুদদের জন্য।
এসকল হলুদ সাংবাদিকদের একসময় ছিল ডিম ব্যবসায়ী,বাসের হেলপার, মাদকসেবী আবার অনেকেই সাইকেল মিস্ত্রী এবং মুহুরি।
বিভিন্ন মাধ্যমল যোগাযোগ করে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন জেলার ও ঢাকার নামসর্বস্ব পত্রিকার কার্ড ম্যানেজ করে সেজেছ বিশাল সাংবাদিক। পকেটে কলম গলায় আইডিকার্ড আর হাতে লোগে দেখলে মনে হবে এরা কেউ প্রথম সারির জাতীয় দৈনিক অথবা টেলিভিশনের সাংবাদিক। এদের আইডি কার্ড ঝুঁলানো পত্রিকাগুলো অনুমোদন নিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ড হয়ে যায়। এরা বিভিন্ন জেলায় হলুদ সাংবাদিকদের কার্ড দিয়ে টাকা নেয় আবার মানুষকে জিম্মি করে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে পত্রিকা ছেপে কয়েককপি সেটি কুরিয়ারে ওই জেলায় পাটিয়ে দেয়। যার বিরুদ্ধে নিউজ থাকে সেইকয়কপি তার অফিস অথবা বাসায় পৌঁছে দিয়ে থাকে।
কোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফেসবুক লাইভ করে ঘটনার বিষয়ে পুঁজি করে দু’পক্ষই কাছে টাকা দাবি করে এরা । প্রথমে বলে সাংবাদিক হিসাবে সম্মানি দেন, যখন এটায় কাজ হয় না তখন বলে মোটর সাইকেলের তেল খরচের জন্য ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা দেন। যখন এই কথায়ও কাজ হয়না তখন বলে চা নাস্তার জন্য ২০০ থেকে ৩০০ টাকা দেন। ১০০ থেকে ২০০ টাকাও ছাড়দেয় না নিয়ে ছাড়ে হুলুদ সাংবাদিকরা।
এসকল ফেসবুকার আর ইউটিউবার কথিত সাংবাদিকদের জন্য জনমনে ভিন্ন ধারণা সৃষ্টি হয়েছে সাংবাদিকতা পেশা নিয়ে। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ এই খুঁটিকে আজ হলুদ কথিতদের জন্য অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ প্রেস ইন্সটিটিউটের জটিলতার কারণও রয়েছে জোরালো পদক্ষেপে । তবে হলুদ কথিতদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন চাইলে পদক্ষেপ নিতে কারে ভাম্যমাণ আদালতে ও জেল জরিমানা করতে পারে নির্বাহী বিভাগ।
সাংবাদিকতার এই মহান পেশাকে এখন দরকার হলুদ কথিতদের থেকে কলংকমুক্ত করা। হলুদের থাবায় গণমাধ্যম যেন জনসাধারণের কাছে ভূল ভাবে উপস্থাপন না হয়। তাহলে গণমাধ্যমে হারাবে মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা। মানুষ যখন নিরুপায় তখন সর্বশেষ আশ্রয়স্থল হিসাবে ছায়া দেয় গণমাধ্যম। কিন্তু সেই মানুষের ওপরে গণমাধ্যম নামক হলুদের কালোছায়ায় হয়ে দাড়ায় তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায় কোথায় পাবে তাদের আস্থা।
সিনিয়র সাংবাদিকরা বলছেন, গণমাধ্যম আজ ফেসবুকারদের কারণে মানদণ্ডহীন হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন পেজ খুলে নামে সাংবাদিক সাজছে যেটা গণমাধ্যমের আইনবিরোধী। এসকল অপ-সাংবাদিকতার কারণে সাংবাদিকতার ভাবধারা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
প্রকৃত সাংবাদিক আর মূল ধারার গণমাধ্যমদের বিব্রত পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে। অপ-সাংবাদিকদের না থামাতে পারলল গণমাধ্যম কল্যাণের চেয়ে অকল্যাণ হয়ে পড়বে সাধারণ মানুষের কাছে। সিনিয়র সাংবাদিকদের উচিত সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এটার প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
নাগরিক নেতা অধ্যাপক ইদ্রিস আলী বলেন, মূলধারার গণমাধ্যম দেশ গড়ার অবদান রাখে। অনিয়ম দুর্নীতি অসংগতির বিরুদ্ধে লিখে দেশকে সঠিক পথে পরিচলনা করতে সহায়ক হিসাবে ভূমিকা পালন করে। আজ সাতক্ষীরা ফেসবুকার কথিত সাংবাদিকদের অভাব নেই। ভূল তথ্য পরিবেশন করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।বিভিন্ন অফিস আদালতে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদা দাবি করছে। জেলা প্রশাসন ও সিনিয়র সাংবাদিকদের একত্রে বসে এই সংকট নিরসন অতিব জরুরী। এত সংকট নিরসন না করতে পারলে গণমাধ্যম সম্পর্কে মানুষের ভূল ধারণা জন্মাবে সাধারণ মানুষের কাছে।
হলুদের সমারোহে গণমাধ্যম আজ বিপদগামী পথে পরিচালনা না হয় এমনটাই দাবি করেছে সাতক্ষীরার সুশীল নাগরিক সমাজ। তারা বলছে কথিত সাংবাদিকদের রুখতে না পারলে মূলধারার সাংবাদিকদের আগামীতে সাংবাদিকতা করা হুমকিসূরুপ হয়ে পড়বে।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
