
মোঃ মোকাররাম বিল্লাহ ইমন:শিশুদের যৌন শোষণ (সিএসইসি) প্রতিরোধ ও তাদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সুফাসেক প্রকল্পের মতবিনিময় সভা সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ।
বুধবার (২২ অক্টোবর) সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবে কনফিডেন্স হল রুমে “ডিটিজেড -শিশুদের যৌন শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করা (সুফাসেক) প্রকল্প”-এর অধীনে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর আয়োজনে এই সভায় কমিউনিটি পুলিশিং সার্ভিসেস (সিপিএস)-এর সদস্য ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ সক্রিয়ভাবে সভায় অংশ নেয়।সভায় মোট সাতান্নটি ‘টোটাল কেইস আইডেন্টিফায়’ চিহ্নিত করা হয়। প্রফেসর আহমেদ স্যারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দিলারা বেগম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা, বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রজেক্ট অফিসার আলী রাজ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
সভায় সাতক্ষীরা সাইবার ক্রাইম এলার্ট টিমের পরিচালক শেখ মাহবুবুল হক জানান, সুফাসেক প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের শনাক্ত করা, তাদের আইনি ও মনো-সামাজিক সহায়তা দেওয়া এবং স্থানীয় সম্প্রদায়কে সচেতন করে একটি শক্তিশালী সুরক্ষা বেষ্টনী তৈরি করা। তিনি শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পরিবারের ভূমিকার ওপর জোর দেন।
সুফাসেক প্রকল্প অ্যাডভাইজারি গ্রুপ, আইন ও শালিস কেন্দ্র’র করিমন নেছা শান্তা বলেন, সিপিএস পুলিশ ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে শিশুদের যৌন শোষণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করবে। তিনি যেকোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ সম্পর্কে প্রশাসনকে জানাতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
আলোচনায় উঠে আসে, সামাজিক ট্যাবু ও ভয়ের কারণে শিশুরা প্রায়শই নির্যাতন গোপন করে। এই সমস্যা সমাধানে পারিবারিক পর্যায়ে শিশুদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা এবং শিশু সুরক্ষা আইন সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করা জরুরি।
সভা শেষে উপস্থিত সকলে ঐকমত্য পোষণ করেন যে, শিশু যৌন শোষণ প্রতিরোধের এই লড়াইয়ে কোনো শিথিলতা কাম্য নয়। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) একটি সমন্বিত ও দৃঢ় পদক্ষেপের মাধ্যমে শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এই ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
