
মো. হাফিজুল ইসলাম:সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৬ নম্বর ভোমরা ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, জনদুর্ভোগ ও স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশার কথা জানতে দিনভর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন ও মতবিনিময় করেছেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। এ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও ভোমরা স্থলবন্দর ঘুরে দেখার পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে তিনি বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রয়োজন ও উন্নয়ন প্রত্যাশার কথা শোনেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে শাখরা-কোমরপুর এলাকার বেউলি ব্রিজসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।মতবিনিময়কালে ভোমরা ইউনিয়নের ইতিহাস-ঐতিহ্য, ভোমরা স্থলবন্দরের গুরুত্ব এবং অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে স্থানীয় মানুষের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন সংসদ সদস্য। এ সময় তিনি এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ এবং জনসাধারণের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন।
বক্তব্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভোট কারচুপির অভিযোগ করেন মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। তাঁর দাবি, জামায়াতে ইসলামী ১৬৮টি আসন পাওয়ার মতো অবস্থানে থাকলেও ফলাফল পরিবর্তনের মাধ্যমে দলটিকে পরাজিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে জনগণের ভোটাধিকার ও নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠা, গরিব-দুঃখী মানুষের অধিকার রক্ষা এবং দেশের উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক সহিংসতা, হাসপাতাল ভাঙচুর, সার বিতরণে অনিয়ম ও সার ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে এসব বিষয়ে জাতীয় সংসদে কথা বলার ঘোষণা দেন।দিনভর কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোমরা স্থলবন্দরে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সংসদ সদস্য। এ সময় শ্রমিকদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বন্দরে একটি হাসপাতাল বা ক্লিনিক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন, শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তিনি জাতীয় সংসদে প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন। চলতি অর্থবছরের মধ্যে ভোমরায় শ্রমিকদের জন্য হাসপাতাল বা ক্লিনিক স্থাপনের বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শ্রমিকদের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে দুটি পানির ব্যবস্থা স্থাপন, আধুনিক শৌচাগার ও ওয়াশ ব্লক নির্মাণ এবং বন্দরের বিভিন্ন স্থানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি। এ ছাড়া শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হওয়া ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে মালিক সমিতি, পুলিশ ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার কথা জানান। প্রয়োজনে বিষয়টি জাতীয় সংসদেও তুলে ধরবেন বলে আশ্বস্ত করেন শ্রমিকদের।
বেউলি ব্রিজ পরিদর্শন ও মতবিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা, উপজেলা প্রকৌশলী দ্যুতি মন্ডল, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মফিজুল রহমান, সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোশাররফ হোসেন, সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান, দেবহাটা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা অলিউল রহমান, সদর উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য শহিদ হাসান ও ডা. শফিকুল ইসলাম, ভোমরা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আনোয়ার কবির, সেক্রেটারি রোকনুজ্জামানসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
দিনভর এসব কর্মসূচিতে স্থানীয় মানুষের সমস্যা, প্রত্যাশা ও উন্নয়নসংক্রান্ত বিষয়গুলো সরাসরি শোনেন সংসদ সদস্য। ভোমরা ইউনিয়নের সার্বিক অগ্রগতি এবং জনসাধারণের জীবনমান উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আশ্বাস দেন তিনি।
দৈনিক সাতক্ষীরা সব সময় সবার আগে
