Breaking News

সাতক্ষীরায় কলেজছাত্র জাকারিয়া খুন: কিশোর গ্যাং লিডার নাহিদসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

Spread the love

নিজস্ব প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরা শহরের এখন এক ভয়াবহ আতঙ্কের নাম সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও কিশোর গ্যাং লিডার নাহিদ হাসান। একের পর এক নিরাপরাধ সাধারন মানুষের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে বর্বরোচিত হামলা চালানোই তার নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। একাধিক মামলা থাকার সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধরাছোয়ার বাইরে থাকায় এবং প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকার কারনে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সাবেক ওয়ার্ড ছাত্রলীগ নেতা ও কিশোর গ্যাং লিডার নাহিদসহ তার বাহিনীর সদস্যরা। সর্বশেষ গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে তার নৃশংসতার বলি হতে হয়েছে শহরের কাটিয়া এলাকার রুচিরা বেকারীর স্বত্বাধিকারী আব্দুল গফুর খাঁনের ছেলে জাকারিয়া খাঁন (১৯) নামের এক কলেজ ছাত্র। জাকারিয়া হত্যার ঘটনায় পরদিন শনিবার রাতে তার ভাই মোঃ শাহারিয়ার খাঁন বাদী হয়ে শহরের ইটাগাছা এলাকার মৃত গিয়াস উদ্দীনের ছেলে কিশোর গ্যাং লিডার নাহিদ হাসান (২৫)কে প্রধান আসামী করে মোট ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৬/৭ জনের নামে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ইতিমধ্যে এ মামলার ২ নং আসামী একই এলাকার মৃত ফিরোজ উদ্দীনের ছেলে মোহিত হাসান বনি (২০)কে গ্রেপ্তার করেছে।
এ মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন, শহরের ইটাগাছা এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মোঃ আরিজুল ইসলাম (২৮), আবুল হোসেন ওরফে বড় খোকার ছেলে ছোট ময়না (২৭), রবিউল ইসলামের ছেলে মোঃ জুয়েল (২৪), মোঃ হাসানের ছেলে মোঃ সাগর (২৩), মৃত ফিরোজ উদ্দীনের ছেলে মোঃ রনি (৩০), শাকিল চেয়ারম্যানের ছেলে মোঃ সামি (২৪), জমিদার মুন্সির ছেলে মোঃ নাঈম (২২), নজরুল সরদারে ছেলে রাশিদুর জামান রাশেদ (৩০), মোঃ মিঠুর ছেলে মোঃ হুজাইফা (২০) ও মিজানুর রহমান মির্জার ছেলে মোঃ শরিফুল ইসলাম শরিফ (২৮)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার গভীর রাতে সাতক্ষীরা শহরের প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সামনে কদম গাছ তলার নিচে রবিউলের চায়ের দোকানে কিশোর গ্যাং লিডার নাহিদসহ তার বাহিনীর সদস্যরা সেখানে চা খেতে আসে। তারা এসময় তাকে দ্রুত চা দিতে বলে। চা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রবিউলের সাথে তারা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাচ করতে থাকে। এসময় রবিউলের প্রতিবেশী ভাইপো বাপ্পী হাসান এর প্রতিবাদ করলে তারা বাপ্পীকে মারপিট ও মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। এ সময় জাকারিয়া খাঁন ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় বাপ্পীকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তারা তাকে পরিকল্পিতভাবে এলাপাতাড়ি মারপিট করতে থাকে। এরপর ১নং আসামী কিশোর গ্যাং লিডার নাহিদ হাসান হত্যার উদ্দেশ্যে তার হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে জাকারিয়ার বামপাশের বুকে খোঁচা মেরে মারাত্নক জখম করে। এতে সাথে সাথে জাকারিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এসময় চা দোকানী রবিউলসহ স্থাণীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মৃত ঘোষনা করেন।
নিহতের ফুফাতো ভাই ও সাতক্ষীরা পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ শাহীন জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে কিশোর গ্যাং লিডার নাহিদ হাসানের নেতৃত্বেই সরাসরি এই হত্যাকান্ড চালানো হয়েছে। অবিলম্বে তিনি নাহিদ হাসানসহ সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবী জানান।
এদিকে, কিশোর গ্যাং লিডার নাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবর বকচরা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোঃ রমজান আলীকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখমের ঘটনায় সদর থানায় মামলা রয়েছে। যে মামলায় চার্জশীটও দেয়া হয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল শহরের ‘ফুচকা বাংলা’র পরিচালক আজিজুল ইসলামকে ছুরি দিয়ে খুঁচিয়ে রক্তাক্ত জখম করে কিশোর গ্যাং লিডার নাহিদ গং। এ নিয়েও মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে আদালতে। এছাড়া বাঁকাল ইসলামপুর এলাকার এক যুবকের পিঠে ছুরি মেরে নির্মম আঘাতসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে ছুরি মারা ও আঙুল কেটে নেয়া মতো গুরুতর অভিযোগে অসংখ্য মামলা রয়েছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৩ সালে কিশোর গ্যাং লিডার নাহিদের পিতা জেলা যুবলীগ নেতা ও চোরাকারবারি গিয়াস উদ্দীনকে ভোমরা সড়কের গাংনিয়া ব্রিজ এলাকায় চোরাকারবারিরা পিটিয়ে হত্যা করে। পিতার পথ ধরে অপরাধজগতে প্রবেশ করা নাহিদের পেছনে রয়েছে তার চাচা স্থানীয় পৌর বিএনপি নেতা নাছির উদ্দীনের রাজনৈতিক প্রভাব।
অভিযোগ রয়েছে, নাছির উদ্দীন প্রশাসনকে ম্যানেজ করার কারনে ভয়াবহ অনেক অপরাধের বিচার হয়নি নাহিদের। ফলে প্রশাসন ও আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পুরো শহরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কিশোর গ্যাং লিডার নাহিদ হাসানসহ তার বাহিনীর সদস্যরা।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকান্ডের বিষয়ে কিশোর গ্যাং লিডার নাহিদের চাচা নাছির উদ্দীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার ভাইপো মুহিদ হাসান বনি ও জাকির হোসেন রনি এ ঘটনার সাথে জড়িত নয়। ঘটনার সময় নাহিদ নিজেও সেখানে ছিল না। আমাদের পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করতে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। তবে নাহিদের অতীতের নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আগের কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে পুলিশ তাকে ধরুক, তাতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু নিরীহ কাউকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আটক করা ঠিক হবে না।
সাতক্ষীরা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মিথুন সরকার জানান, কলেজ ছাত্র জাকারিয়া হত্যার ঘটনায় ইতিমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকী অঅসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

About dainiksatkhira24

Check Also

সাতক্ষীরায় মুসলিম এইডের অ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্কিং ও সহযোগিতা সভা অনুষ্ঠিত

Spread the loveনিজস্ব প্রতিনিধি: ৮ম শ্রেনীতে কালীনসময়ে বিয়ে হয় মর্জিনা খাতুনের। অভাব অনাটনের সংসার তখন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com