সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত তিন পরিবারকে স্বাবলম্বী করল আইএফএসডি ফাউন্ডেশন

Spread the love
শাহিনুর রহমান:
সাতক্ষীরা সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি পরিবারের পুনর্বাসন ও টেকসই জীবিকার লক্ষ্যে  সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে গ্রোওয়েল প্রকল্পের আওতায় আইএফএসডি ভিলেজ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছে সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান আইএফএসডি (IFSD) ফাউন্ডেশন।
সুন্দরবনসংলগ্ন গাবুরা ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ মাছ ধরা, কাঠ সংগ্রহ ও মধু আহরণের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পেশার ওপর নির্ভরশীল। জীবিকার তাগিদে প্রতিনিয়ত সুন্দরবনে প্রবেশ করতে গিয়ে অনেকেই বাঘের আক্রমণের শিকার হন। এতে কেউ প্রাণ হারান, আবার কেউ গুরুতর আহত হয়ে কর্মক্ষমতা হারিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েন।
এমন তিনটি পরিবারের জন্য বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করতে গ্রোওয়েল প্রকল্পের আওতায় তিনটি ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে পৃথক পৃথক স্থানে তাদের কাছে দোকানে র চাবি তুলে দেয়া হয়।
এর মধ্যে মো. সিদ্দিক গাজীর জন্য “মেসার্স সিয়াম এন্টারপ্রাইজ”, মো. মোবারক গাজীর জন্য “আরিশা এন্টারপ্রাইজ” এবং মো. আতিয়ার গাজীর জন্য “সাজিদা স্টোর” নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিয়মিত আয়ের সুযোগ তৈরি করবে এবং সুন্দরবনের ঝুঁকিপূর্ণ জীবিকার ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইএফএসডি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সেক্রেটারি জেনারেল মো. মেহেদী হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ফাহাদ উজ্জামান খান, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আবদুল্লাহ শাহরিয়ার বিজয়, স্থানীয় সহযোগী প্রতিষ্ঠান আইসিডির প্রতিষ্ঠাতা আশিকুর রহমান এবং আমাদের সময় এর নিজস্ব প্রতিবেদক ও মাছরাঙা টেলিভিশনের সাতক্ষীরা জেলা রিপোর্টার মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সুন্দরবনসংলগ্ন অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা নানা ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তাই কেবল আর্থিক সহায়তা নয়, টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই সময়ের দাবি। গ্রোওয়েল প্রকল্প সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে।
তারা আরও বলেন, ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আইএফএসডি ফাউন্ডেশন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবিকায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ভবিষ্যতেও সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের আরও অসহায় ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে পুনর্বাসন ও বিকল্প জীবিকার আওতায় আনার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক পুনর্বাসনই নয়, সুন্দরবনের ঝুঁকিপূর্ণ পেশার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিরাপদ ও টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

About dainiksatkhira24

Check Also

গাবুরায় খাবার পানির সংকটে থাকা ৫০ পরিবারে ব্রতীর ‌বিনামূ‌ল্যে ট্যাংক বিতরণ

Spread the loveশ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার দুর্যোগপ্রবণ গাবুরায় খাবার পানির সংকট মোকাবিলায় ৫০টি সুবিধাবঞ্চিত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com