শেখ হাসিনার কথিত প্রত্যাবর্তন নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রচারণা ভিত্তিহীন

Spread the love

নিউজ ডেস্ক:
ইউপি নির্বাচনের সম্ভ্যাব্য সময়সূচির সঙ্গে শেখ হাসিনার কথিত প্রত্যাবর্তনের খবর জড়িয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের ভিত্তিহীন প্রচারণা চালিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা সনাক্ত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট।

বাংলাফ্যাক্ট জানায়, ইউপি নির্বাচনের সম্ভ্যাব্য সময়সূচির সঙ্গে শেখ হাসিনার কথিত প্রত্যাবর্তনের খবর জড়িয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের ভিত্তিহীন প্রচারণা সনাক্ত করা হয়েছে।

বাংলাফ্যাক্ট অনুসন্ধান টিম জানায়, পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল’ দাবি করছে, আগামী ১৩ ডিসেম্বর ইউপি নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে এবং শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাব্য দিনকে ঘিরে বিএনপি সরকার এই নির্বাচনের পরিকল্পনা সাজিয়েছে। অথচ, ইউপি নির্বাচনের কোনো তারিখই এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং ঘোষিত সময়সীমা ছিল কেবল প্রাথমিক সম্ভাব্য খসড়া। নভেম্বর ও ডিসেম্বরে পরীক্ষা থাকায় ওই সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, ‘নির্বাচন কবে এবং কী পদ্ধতিতে বা কোন পর্যায়ে হবে, তা নিয়ে কমিশনে দুই দিন ধরে প্রাক-প্রস্তুতিমূলক আলোচনা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার একটি সম্ভাব্য সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এটি একেবারেই প্রাথমিক সময়সূচি।’ ইসি এই সময়সূচিকে সম্ভাব্য বললেও, দ্য ওয়ালের প্রতিবেদনে এটিকে চূড়ান্ত ধরে নিয়ে তার সাথে অযৌক্তিকভাবে শেখ হাসিনার কথিত প্রত্যাবর্তনের প্রসঙ্গ জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত সমন্বয় বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ্ সাংবাদিকদের স্পষ্টভাবে জানান নির্বাচনের কোনো তারিখই এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। গত ১৪ সেপ্টেম্বর ইসি যে সূচিটি জানিয়েছিল, তা ছিল সম্পূর্ণ ‘প্রাথমিক ও সম্ভাব্য সময়সূচি’।

ইসি কমিশনার জানান, নভেম্বর ও ডিসেম্বরজুড়ে বিভিন্ন পরীক্ষা রয়েছে (যেমন—১৩ ডিসেম্বর নির্ধারিত রয়েছে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা)। পরীক্ষা ব্যাহত না করে এবং সামনে রোজা ও এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা বিবেচনা করে কীভাবে স্লট বের করা যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে। আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে ভোট শেষ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হলেও সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।

ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশ ও প্রবাস থেকে পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং কিছু ফেসবুক পেজ থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে নানা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। এসব অপতথ্য বিশেষ করে বিগত অন্তর্বর্তীকাল সরকার, চব্বিশের আন্দোলনে অংশ নেওয়া দল ও সংগঠনকে লক্ষ্য করে ছড়ানো হয়। পাশাপাশি সাম্প্রতিক নানা বিষয়ে বিএনপি ও বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে গুজব মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা সনাক্ত করা হচ্ছে।

‘বাংলাফ্যাক্ট’ প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ পিআইবি’র ফ্যাক্টচেক, মিডিয়া রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিম, যারা নিয়মিত ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাই করে সত্য তুলে ধরে এবং গণমাধ্যম ও সংবাদ নিয়ে গবেষণা করে।

ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া শত শত ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে বাংলাদেশের ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান বাংলাফ্যাক্ট। বাংলাদেশে চলমান গুজব এবং ভুয়া খবর, অপতথ্য প্রতিরোধ এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ায় দায়িত্ব পালন করছে বাংলাফ্যাক্ট।

About dainiksatkhira24

Check Also

নতুন করে গণভোট প্রসঙ্গে সরকারের কাছে তিন প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব চাইলেন জামায়াত নেতা আযাদ

Spread the love নিউজ ডেস্ক: গত ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com