
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে আগেই সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছে ইসরাইল। এর পর থেকেই দেশটিতে নতুন করে হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়। এবার এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে লক্ষ্য করে সামরিক ‘পদক্ষেপ’ নিতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র রোববার (১১ জানুয়ারি) সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল–কে এই তথ্য জানিয়েছে। সূত্রগুলোর দাবি, গত এক সপ্তাহে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম ও সম্পদ মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে স্থানান্তর করা হয়েছে।
সূত্ররা আরও জানান, আগামী দিনগুলোতেও এই সামরিক সরঞ্জাম স্থানান্তর অব্যাহত থাকতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পদক্ষেপের পরই কেবল ইসরাইল এতে অংশ নেবে—এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে। সেটিও তখনই, যদি ইরান সরাসরি ইসরাইলের ওপর হামলা চালায় অথবা হামলার সুস্পষ্ট প্রস্তুতির লক্ষণ দেখা যায়।
এদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হস্তক্ষেপ করতে পারে—এমন আশঙ্কায় উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে ইসরাইল। রোববার (১১ জানুয়ারি) তিনজন ইসরাইলি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এরই মধ্যে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ না করতে ইরানকে বারবার সতর্ক করে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। গত শনিবার তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে ‘সহায়তা দিতে প্রস্তুত’।
সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত এক নিরাপত্তা পরামর্শ বৈঠকে অংশ নেওয়া ইসরাইলি সূত্রগুলো জানিয়েছে, উচ্চ সতর্কতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই সতর্কতার আওতায় কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তারা বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
এক ইসরাইলি সূত্র জানায়, শনিবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যে এক ফোনালাপে ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা ওই ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও আলোচনার বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।