
শ্যামনগর প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে নোনাপানি ব্যবহার করে চিংড়ি চাষের পরিকল্পিত কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয় কৃষকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, ধান চাষে ফিরে আসায় কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও পরানপুর ১০ নম্বর গ্রামে চিংড়ি চাষ চালিয়ে যেতে গিয়ে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। চাষিরা অভিযোগ করেছেন, একটি অসাধু রাজনৈতিক মহল অদৃশ্য কারণে পরিকল্পিত চিংড়ি চাষে বাধা দিচ্ছে। ফলে শতাধিক পরিবার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।
স্থানীয় চাষিরা দাবি করছেন, যেসব এলাকায় ঐতিহ্যগতভাবে এবং পরিকল্পিতভাবে নোনাপানি ব্যবহার করে চিংড়ি চাষ করা হয়, সেই কার্যক্রম চালু রাখা উচিত। কারণ চিংড়ি বাংলাদেশের অন্যতম রপ্তানিযোগ্য পণ্য, যা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পরানপুর গ্রামের মুজিবর রহমান বলেন,“আমরা বহু বছর ধরে নিয়ম মেনে চিংড়ি চাষ করে আসছি। এতে পরিবেশের ক্ষতি না করে জীবিকা নির্বাহ করছি। কিন্তু রাজনৈতিক চাপ দিয়ে আমাদের কাজ বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
গত ৮ জানুয়ারি, কৈখালী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে স্থানীয় কিছু মানুষ মানববন্ধন করেন। চেয়ারম্যান কড়া হুশিয়ারি দিয়ে জানান, এই গ্রামে কোনো নোনাপানি দিয়ে চিংড়ি চাষ চলতে দেওয়া হবে না।
তদন্তে জানা গেছে, দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক বিরোধের কারণে সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিমের গ্রামে ছোট চিংড়ি চাষের ঘেরকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্র এবং বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। 이에 প্রতিবাদ জানিয়ে স্থানীয় চিংড়ি চাষীরা ৯ জানুয়ারি মানববন্ধন আয়োজন করেন।
স্থানীয় কৃষকরা আশা প্রকাশ করেছেন, ধান চাষ এবং চিংড়ি চাষ দুইটি কার্যক্রমই পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথও সুগম হবে।