
জেমস আব্দুর রহিম রানা:যশোরের শার্শায় সংখ্যালঘু কয়েকটি পরিবারের বসতভিটার জমি দখলের অভিযােগ উঠেছে বিএনপির পরিচয় দানকারী দুই নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে শার্শা উপজেলার ৭নং কায়বা ইউনিয়নের বাগুড়ী পালপাড়া গ্রামে। এ ঘটনায় অর্ধশত হিন্দু পাল সম্প্রদায় দখলদারদের বিরুদ্ধে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও যশোর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযােগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগ পেয়ে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে গত (১৬ এপ্রিল) বুধবার দুপুরে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. কাজী নাজিব হাসান ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) শওকত মেহেদী সেতু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, যশোরের শার্শা উপজেলা বিএনপির যুগ্ন-সাধরণ সম্পাদক বাগুড়ী গ্রামের বাসিন্দা তাজউদ্দিন আহম্মেদ, উপজেলা বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক মশিয়ার রহমান, চটা সিরাজ, লাল্টু, টুটুল, সাঈদসহ তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা বাগুড়ী পালপাড়ার পালদের দখল থাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগর পরিত্যক্ত প্রায় ৩৩ শতক বসতভিটার জমি দখল করে সিমেন্টের পিলার পুতে দিয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন পালরা জানান, তাদের বাপ দাদার আমল থেকে প্রায় ৯০ বছর সেখানে বসবাস করে আসছেন। এবং পূর্ব পুরুষ থেকে তারা মাটির আসবাবপত্র হাড়ি পাতিলসহ বিভিন মাটির জিনিস তৈরী করে জীবীকা নির্বাহ করেন।
একাধীক অভিযাগকারীরা জানান, বাড়ির সামনের জমি দখলকারীরা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার প্রতিবাদ করতে সাহস পাছেন না। ঐ প্রভাবশালীরা সব সময় তাদের উপর ভয় ও হুমকি ধামকি প্রদর্শন করছে।
অভিযোগকারী শ্রী গৌরচদ্র পাল জানান, তাদের বসতভিটার সামনে তাদের দখলে থাকা প্রায় ৩৩ শতক জমি দখল করে নিয়েছে। তিনি বলেন, তাদের বাপ দাদার পৈতৃক সূত্র থেকে এই জমি দখল করে বসবাস করে আসছেন। তিনি আরো জানান, তাদের জমি ফেরত পেতে পালপাড়ার সবাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও যশোর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযাগ দায়ের করেছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা তাজউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, তারা কোন হিন্দুদের জমি দখল করেননি। তিনি বলেন, বাগুড়ী পালপাড়ার হিন্দুরা গত ২০/২৫ বছর তাদের দখলে থাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমি দখল করে আছে। হিন্দুরা তাদের ঐ দখলে থাকা জমি সরকারের নিকট থেকে বা সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে লিজ নেয়নি। যে কারনে আমরা কয়েকজন মিলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নিকট থেকে প্রায় ৩৩ শতক জমি ডি’সি আর নিয়েছি। তিনি আরো বলেন, এখনও তারা ঐ জমি দখল করেননি, জমিতেও যাননি।
অপরদিকে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস। তিনি জানান, তাজউদ্দিন ও মশিয়ার দু’জনে মিলে আমার নামে হিন্দুদের দখলে থাকা দু’শতক জমি ডি’সি আর কেটেছে। আমি ঐ জমির বিষয়ে কিছুই জানি না। আমার ধারণা তাদের অপরাধ ঢাকতে এবং আমাকে ফাঁসানোর জন্য তারা দু’জনে এই কাজ করেছে। আমি বা আমার পরিবার ঐ জমি নিব না।
এ ব্যাপারে জনতে চাইলে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ডা. নাজিব হাসান জানান, ডিসি স্যার এর নির্দেশে আমি এবং এসিল্যান্ড সেতু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।