December 10, 2025, 5:02 am
শিরোনাম :
পদত্যাগ করছেন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ খালেদা জিয়াকে সেনাকুঞ্জে যেতে নিষেধ করেছিলেন চিকিৎসকরা: তারেক রহমান অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করলেন তারেক রহমান সাতক্ষীরা জেলা সাংবাদিক ফোরামের শোক জ্ঞাপন মণিরামপুরে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা কলারোয়ায় আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালিত  তালায় আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালন দেবহাটায় বেগম রোকেয়া দিবস ২০২৫ উদযাপিত নির্বাচন কমিশনারের সাথে সাতক্ষীরা জামায়াত নেতাদের সাক্ষাৎ সাতক্ষীরায় বিজিবির অভিযানে সাড়ে চার লক্ষ টাকার চোরাচালানী মালামাল জব্দ

যীশু খ্রিস্টের পুনরুত্থান ও মানব জাতির মুক্তি

Reporter Name

Spread the love

জেমস আব্দুর রহিম রানা:যীশু খ্রিস্টের পুনরুত্থান অপ্রত্যাশিত ছিল না। যীশু বহুবার নিজের মৃত্যু ও পুনরুত্থানের বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। তবে একথা ঠিক মানুষ তখন তাঁর পুনরুত্থানের বিষয় বুঝে উঠতে পারেন নি।
প্রভু যীশুর জন্ম, মৃত্যু, পুনরুত্থান কোনটিই অপ্রত্যাশিত নয়। তিনি বৈৎলেহমে কুমারীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করবেন সেকথা খ্রিস্টের জন্মের প্রায় সাতশত বছর আগে ঈশ্বর যিশাইয় নবী দ্বারা প্রকাশ করেছেন। তাঁকে ক্রুশে দিয়ে মারা হবে তাও যিশাইয় লিখিত পুস্তকে পাওয়া যায়। যীশুর জন্মেরও বহু আগে তাঁর পুনরুত্থান সম্বন্ধে দায়ুদ নবী বলেছিলেন কারণ তুমি আমার প্রাণ পাতালে পরিত্যাগ করিবে না, তুমি নিজ সাধুকে ক্ষয় দেখিতে দিবে না (গীত সংহিতা ১৬:১০)।
বহুবার যীশু নিজেরও তাঁর যে মৃত্যু এবং পরে যে আবার তিনি মৃতদের মধ্য থেকে উত্থিত হবেন সে বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। তিনি তাঁর অনুসারীদের উপদেশ দিয়ে বলতেন মনুষ্যপুত্র মনুষ্যদের হস্তে সমর্পিত হইবেন, তাহারা তাঁহাকে বধ করিবে, হত হইলে পর তিনি তিন দিন পরে পুনরুত্থিত হইবেন (মার্ক ৯:৩১)। যীশু সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁকে নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে বুঝতে পেরে দুটি যুক্তি উপস্থাপন করেছিলেন:
প্রথমত : তিনি তাঁর প্রাণ সম্বন্ধে বলেছেন, তাহা সমর্পণ করিতে আমার ক্ষমতা আছ। নিষ্পাপ হিসাবে তাঁর মৃত্যুর প্রশ্নই আসে না। কিন্তু পিতার কাছ থেকে তিনি নিজের জীবন সমর্পণ করার অধিকার পেয়েছেন যেন আমার মুক্তি পেতে পারি।
দ্বিতীয়ত : যীশু তাঁর প্রাণ সম্বন্ধে বলেছেন, ‘পুনরায় তাহা গ্রহণ করিতেও আমার ক্ষমতা আছে’ (যোহন ১০:১৮)। যীশু বোঝাতে চেয়েছেন তিনি স্বেচ্ছায় স্বপ্রণোদিতভাবে মানুষের প্রতি তাঁর ভালবাসার পরিপ্রেক্ষিতে নিজের প্রাণ নিজে উৎসর্গ করতে পারেন এবং তারপর নিজের ক্ষমতার মাধ্যমে নিজে পুনরায় সেই প্রাণ গ্রহণ করতে পারেন। পুনরুত্থান দ্বারা যীশু তাঁর নিজের প্রাণ পুনরায় গ্রহণ করেছেন। মৃতদের মধ্য থেকে উঠে আসার অধিকার বা ক্ষমতা প্রভু যীশুর ছিল কারণ তিনি ঈশ্বর পুত্র। পরিত্রাণের কাজ শেষ হবার পর ঈশ্বর প্রভু যীশুকে আর মৃত্যুর মধ্যে আটকে রাখতে পারেন নি, তাই খ্রিস্ট নিজ ক্ষমতা বলে উত্থিত হয়েছেন।
কেউ যেন যীশুর দেহ চুরি করতে না পারে সেজন্য দেশাধ্যক্ষ পীলাত রোমান সৈন্যদের বলেছিলেন, ‘তোমাদের নিকটে প্রহরি দল আছে, তোমরা যথাসাধ্য তাঁর মৃতদেহ রক্ষা কর। তাহাতে তাহারা গিয়ে প্রহরি দলের সহিত সেই কবরের মুখ মুদ্রাঙ্ক করিয়া কবর রক্ষা করিতে লাগিত’ (মথি ২৭:৬৫-৬৬)। কবর মুদ্রাঙ্ক করা মানে ক্ষমতা প্রদর্শন করা। খ্রিস্ট পুনরুত্থান দ্বারা প্রমাণ করলেন, তিনি রোমান স¤্রাট তথা মানুষের সমস্ত বুদ্ধি, শক্তি ও ক্ষমতার ঊর্ধ্বে।
যীশুর মৃত্যুর পর তাঁর শিষ্য ও অনুগামীরা ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন, কিন্তু তিনি পুনরুত্থিত হবার পর পরই তারা সাহসের সঙ্গে যীশুর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে লাগলেন। যারা যীশুকে ক্রুশে দিয়েছিল, তাদের কাছেও সাক্ষ্য দিয়ে বলেছিলেন খ্রিস্ট কবর জয় করে পুনরুত্থিত হয়েছেন।
পবিত্র বাইবেলের নতুন নিয়মের বিশেষ ব্যক্তিত্ব শৌল (পরবর্তীতে পৌল) ছিলেন খ্রিস্টে বিশ্বাসী লোকদের উপর অত্যাচারকারীদের মধ্যে অন্যতম। তিনি খ্রিস্টে বিশ্বাসী (খ্রিস্টান) লোকদের অত্যাচার-নির্যাতন করার জন্য সিরিয়া দেশের রাজধানী দামেস্কে যাবার সময় পুনরুত্থিত খ্রিস্ট তাকে দর্শন দেন। ফলে যে শৌল নিজ ধর্মের প্রতি অন্ধ, গোঁড়া এবং অপর ধর্মের লোকদের উপর অত্যাচারকারী ছিলেন, তিনি হঠাৎ খ্রিস্টের দর্শন পেয়ে সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে শান্ত, খ্রিস্টের পক্ষে অনুরাগী এমনকি খ্রিস্টের জন্য দুঃখভোগ স্বীকার করতে প্রস্তুত হলেন। যারা যীশুকে ক্রুশে দিয়ে হত্যা করেছিল, তারাই মন পরিবর্তন করে খ্রিস্টকে ত্রাণকর্তা হিসাবে গ্রহণ করেছিল। শুধু তাই নয়, তখন ইহুদী-অইহুদী অনেকেই যীশু খ্রিস্টকে মুুক্তিদাতা বলে স্বীকার করেছিল।
ইহুদীরা মনে করেছিল খ্রিস্টকে মেরে ফেললে খ্রিস্টে বিশ্বাসীদের জীবন স্তিমিত হয়ে যাবে। তিনি যদি পুনরুত্থিত না হতেন, তবে সত্যিই ইহুদীরা কৃতকার্য হত। যীশু খ্রিস্ট পুনরুত্থিত না হলে এই পৃথিবীতে খ্রিস্ট ধর্ম বলে কিছু থাকত না। ইয়োব নবী বলেছেন, “আমি জানি, আমার মুক্তিকর্তা জীবিত” (ইয়োব ১৯:২৫)। প্রত্যেক খ্রিস্টে বিশ্বাসী জানে যে তার মুক্তিদাতা জীবিত। আমরা কোন মৃত ব্যক্তির উপাসনা করি না। যীশু খ্রিস্ট কবরে নেই। খ্রিস্টের মৃত্যু, কবর প্রাপ্তি ও পুনরুত্থান এর উপর বিশ্বাস ছাড়া একজন লোকও ঈশ্বরের সন্তান হতে পারে না।
যীশু খ্রিস্ট পুনরুত্থিত হবার পর চল্লিশ দিন এই পৃথিবীতে অবস্থান করেছিলেন। তখন তিনি হাজার হাজার মানুষকে দেখা দিয়েছিলেন। পরে শেষ দিন যীশু একটি পাহাড়ের পাদদেশে হাজার হাজার মানুষের সামনে তাদের বললেন, “তোমরা সমুদয় জগতে যাও, আমার কথা বল, সুসমাচার প্রচার কর, যেন মানুষ পরিত্রাণ পায়। কারণ এখন আমি স্বর্গে পিতা ঈশ্বরের কাছে যাচ্ছি, আর শেষ দিনে মানব জাতির বিচার ও পরিত্রাণ কার্য সাধন করতে পুনরায় ফিরে আসব”। এই কথা বলে প্রভু যীশু ঊর্ধ্বে, স্বর্গে পিতা ঈশ্বরের কাছে নীত হলেন।

যীশু যে মৃত্যুকে জয় করে পুনরুত্থিত হয়েছেন তার প্রমাণ – শিষ্যদের নিজ চোখে দেখা স্বাক্ষ্য ও তাদের সামনে পুনরুত্থিত যীশুর বহুবার দর্শন দান। যীশুর প্রিয় শিষ্য সাধু যোহন তার মঙ্গলসমাচারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন কিভাবে রবিবার দিন ভোরে মাগদালার মারিয়া যীশুকে কবরে খুঁজে পাননি, বরং তিনি দেখেছেন সমাধিটা শূণ্য। তাঁর আপত্তি ছিল যীশুকে কেউ চুরি করে নিয়ে গেছে। একই ভাবে পিতর ও অন্য একজন শিষ্য সমাধি গুহার ভিতরে প্রবেশ করে যীশুর দেহ খুঁজে পায়নি; শুধুমাত্র ক্ষোম কাপড়ের ফালিগুলো ছড়ানো অবস্থায় দেখতে পেলেন এবং তাঁর অন্তরে জেগে উঠল বিশ্বাস এই ভেবে যে, শাস্ত্রবাণী পূর্ণ হয়েছে ‘যীশুকে মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থান করতে হবে’ (যোহন ২০: ১-৯) । যীশু যে পুনরুত্থিত হয়েছেন দু’জন স্বর্গদূত সেই যীশুভক্ত নারীদের সেই কথায় জানিয়েছিলেন ‘যিনি জীবিতই আছেন তাঁকে তোমরা মৃতদের মধ্যে খুঁজে বেড়াচ্ছ কেন! তিনি এখানে নেই, তিনি তো পুনরুত্থিত হয়েছেন’ । যীশুর সেই কথা তখন তাদের মনে পড়ে যায় যে, “মানবপুত্রকে একদল পাপী মানুষের হাতে সমর্পিত হতে হবে, তাঁকে ক্রুশ বিদ্ধ হতে হবে, তারপর তৃতীয় দিনে তাঁকে পুনরুত্থানও করতে হবে”। যীশুর এই পুনরুত্থান সংবাদ অন্য এগারোজন শিষ্যকে তারা জানালো যদিও এসব কথা তারা বিশ্বাস করতে চাইলো না। কিন্তু পিতর নিজে গিয়ে দেখল যীশু সমাধিতে নেই, সমাধি সম্পূর্ণভাবে শূণ্য (লুক ২৪:১-১২)
তাহলে এখন আমাদের কাছে খুবই স্পষ্ট যে, যীশু সত্যিই পুনরুত্থিত; – যিনি মৃত্যুকে জয় করে দেখিয়েছেন যে তিনি সত্যিকারভাবে মৃত্যুঞ্জয়ী। যীশুর সমাধিটি শূণ্য অথ্যাৎ যীশু সেখানে আর নেই, তিনি জীবিত হয়ে উঠেছেন। মৃত্যু তাকে আঁকড়ে ধরে রাখতে পারেনি। জগৎ সংসারের শক্তি তাঁকে কোনভাবেই আঁকড়ে রাখতে পারেনি বরং তিনি সত্যিকার ভাবে মৃত্যুঞ্জয়ী। আর পরবর্তীতে যখনই তিনি তাঁর প্রিয় শিষ্য ও অন্যান্যদের দেখা দিয়েছেন তিনি নিজেই প্রকাশ করেছেন যে তিনি পুনরুত্থিত। যোহন তার মঙ্গলসমাচারের ২০ ও ২১ অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন পুনরুত্থিত যীশু মাগদালার মারিয়াকে দেখা দিয়ে বলেছিলেন যে, তুমি আমার ভাইদের গিয়ে জানাও যে যিনি আমার ও তোমাদের পিতা, আমার ও তোমাদের ঈশ্বর আমি উর্ধ্বলোকে তাঁরই কাছে ফিরে যাচ্ছি। মাগদালার মারিয়া যীশুর দেখা পেয়ে এতো আনন্দিত হয়েছিল যে, সে সমস্ত কিছু এগারজন শিষ্যকে একথা জানিয়েছিল । তাই যীশুর পুনরুত্থানে সংবাদ লাভে শিষ্যগণের ভিতরে ভয়-ভীতি দূর হয়ে যায়; তাদের বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়ে উঠে।

অন্যদিকে পুনরুত্থিত যীশু শিষ্যদের সত্যিকার জীবনাহ্বান কি তা সুনিশ্চিত করার জন্য যীশুর নির্দেশে তারা গভীর জলে জাল ফেলল এবং প্রচুর মাছ ধরল; যা ছিল সত্যিকারভাবে তাদের জন্য আশ্চর্য সাফল্য। একই ভাবে যীশু রুটি ও মাছ সকলের হাতে দিলেন যেন তারা সকালের খাবারটা সেরে ফেলে (যোহন ২১: ১-১৩)। আসলে পবিত্র বাইবেলের এসব ঘটনাগুলো সত্যিকারভাবে প্রমাণ ও প্রকাশ করে যে, যীশু সত্যিই পুনরুত্থিত হয়েছেন এবং এর মূল রহস্য হলো মানব মুক্তি বা পরিত্রাণ। অপরদিকে, এম্মাউসের পথে দু’জন শিষ্যের সাথে পুনরুত্থিত যীশুর দীর্ঘ পথের যাত্রা ও সংলাপ, যেখানে তিনি খুবই মনোযোগ-সহকারে যীশুকে কেন্দ্র করে যেরুসালেমে ঘটে যাওয়া সমস্ত ঘটনা শুনছিলেন। অর্থ্যাৎ সেই দু’জন শিষ্য নিজেরাই সাক্ষ্য দিচ্ছিল যে, যীশু সত্যিই পুনরুত্থিত হয়েছেন; কারণ কয়েকজন স্ত্রীলোক যীশুর মৃতদেহ কবরে দেখতে পাননি এবং স্বর্গদূতগণ জনিয়েছেন যে, যীশু বেঁচে উঠেছেন। যীশু গভীর আগ্রহে তাদেরকে পবিত্র শাস্ত্রের ও প্রবক্তাদের বাণীগ্রন্থ থেকে খ্রিস্ট সম্পর্কে যা বলা হয়েছে সবই বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন এবং সর্বশেষে রুটি ছেড়া অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তারা পুনরুত্থিত যীশুকে চিনতে পেরেছিল ( লুক ২৪: ১৩-৩৫)।

প্রকৃতপক্ষে পুনরুত্থিত যীশু নিজেই ধীরে ধীরে তাঁর পুনরুত্থানের সংবাদ শিষ্য ও অন্যান্যদের কাছে প্রকাশ করেছেন। তবে এটা খুবই লক্ষ্যনীয় যে, পুনরুত্থিত যীশুকে শিষ্যরা যখনই দেখতে পেয়েছেন প্রথমে তাঁকে চিনতে তাদের সত্যিই অসুবিধা হয়েছে; কিন্তু যীশু নিজেই যখন কথা বলছেন এবং নিজের পরিচয়ের বিষয় ইঙ্গিত দিয়েছেন তখন তারা যীশুকে চিনতে ভুল করেনি। এ থেকে এটা স্পষ্ট যে, কারো পারলৌকিক পুনরুত্থান ঘটলে তাঁর দেহের পরিবর্তন হয় এবং চেহারাও বদলে যায় ( ১ করি ১৫: ৪২-৪৪)। অন্যদিকে যীশু যে পুনরুত্থিত হয়েছেন সে ব্যাপারে শিষ্যদের বিশ্বাসের দুর্বলতাও একটি বিশেষ কারণ ( মার্ক ১৬: ১১-১৪)।

যীশুর পুনরুত্থান আমাদের জীবনের মুক্তি এটা সত্যিই বাস্তব ও খ্রিস্টীয় বিশ্বাসে গ্রহণীয়। আমরা যীশুকে বিশ্বাস করি এবং এটাও স্বীকার করি তিনি আমাদের মুক্তিদাতা ও ত্রাণকর্তা। কারণ তাঁর যাতনাভোগ, ক্রুশীয় মৃত্যু ও পুনরুত্থান যার মধ্য দিয়ে আমরা সকলেই পেয়েছি পাপের ক্ষমা, নতুন জীবন ও জীবনের পুর্ণ মুক্তি। মণ্ডলির শিক্ষা, পবিত্র শাস্ত্রবাণী ও মণ্ডলির ঐতিহ্যগত শিক্ষা সর্বোপরি প্রেরিতগণের শ্রদ্ধামন্ত্রে (Apostles Creed) আমরা যীশুর মৃত্যু ও পুনরুত্থানে বিশ্বাস করি ও তা স্বীকারও করি। কারণ যীশু মৃত্যু ও পুনরুত্থানের মধ্য দিয়েই গোটা মানবজাতি তথা জগতের মুক্তি এনেছেন।

যীশুর পুনরুত্থান পর্ব উদযাপনে আমাদের যে আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি আমরা নিয়ে থাকি তা অবশ্যই জীবনে মুক্তিলাভে সহায়তা করে। কারণ আমরা এ জগত সংসারের অনেক কিছুর সাথে জড়িয়ে পড়ি এবং সাংসারিক মোহ-মায়ায় আসক্ত হয়ে পড়ি। তাই যীশু তাঁর যন্ত্রণাময় মৃত্যু ও গৌরবময় পুনরুত্থানের মধ্য দিয়ে আমাদের শিক্ষা দিতে চান যেন আমরাও পাপের আসক্তি ত্যাগ করি, অনুতাপ করি ও পাপের ক্ষমা লাভের মধ্য দিয়ে যীশুর পুনরুত্থানের অংশীদার হয়ে উঠতে পারি। বিগত বছরগুলোতে আমাদের যেসব ঘাটতিগুলো ছিল সেগুলি যেন এবছর যীশুর পুনরুত্থান পর্ব উদযাপনের মধ্য দিয়ে পুরণে সচেষ্ট হই এবং সুন্দর মন ও চিন্তা, হৃদয়ের পবিত্রতা ও পুর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে পাষ্কাপর্ব তথা পুনরুত্থান পর্ব উদযাপন করতে পারি। আমরা পুনরুত্থিত যীশুর সংস্পর্শে এসে যেন নবজীবন লাভে ধন্য হতে পারি। পরস্পরের সঙ্গে একত্রে যেন পুনরুত্থানের আনন্দ, শান্তি ও ঐশ ভালবাসা সহভাগিতা করে আত্মার তথা জীবনের মুক্তির স্বাদ লাভ করতে পারি। পুনরুত্থিত প্রভু যীশু যেন আমাদের ঐশ আশির্বাদ দানে ধন্য করেন। সুন্দর, আনন্দপূর্ণ ও উৎসব মূখর হোক এবারের পুনরুত্থান উৎসব তথা পাষ্কা পর্ব।

প্রিয় সুধী, আজ ২০ এপ্রিল ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ রোববার। আজ ইস্টার সানডে। খ্রিস্টের পুনরুত্থানের দিন, বিজয়ের দিন। এই দিনে যীশু খ্রিস্ট মৃত্যুর বন্ধন ছিন্ন করে পুনরুত্থিত হয়েছেন। খ্রিস্ট জগতে আজ মহাআনন্দের দিন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুক পেজ