
পাটকেলঘাটা প্রতিনিধিঃসাতক্ষীরার পাটকেলঘাটার ভূমি অফিসের নাজির তপন কুমারে বিরুদ্ধে ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে । এমন অভিযোগের সত্যতা খুঁজতে প্রথমে পাটকেলঘাটা,ইসলামকাটি, ও নগরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে টার্গেট করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকেরা। সরজমিনে গেলে প্রতিটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গ্রাহক সেজে অনুসন্ধান করলে বেরিয়ে আসে পাটকেলঘাটা, ইসলামকাটি, নগরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মিউটেশন বানিজ্যের রহস্য। সেখানে প্রতিটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব নাম পত্তন বাবদ সরকারি খরচ ছাড়াই এক হাজার, টাকা অফিস সহকারী এক হাজার,সার্বিয়ার দুইশত,নাজির তপন কুমার এক হাজার,জারিকারক দুইশত, এমনকি ঝাড়ুদার পর্যন্ত টাকা নেন বলে দাবী গ্রাহকদের । এছাড়া প্রতি মিউটেশনে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসে বাধ্যতামূলক দিতে হয় ৪৫০০ টাকা বলে
ভুক্তভোগীরা জানান।এই মিউটেশন বাণিজ্যের কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা।
পরিচয় গোপন রেখে কথা হয় কয়েকজন দালালের সাথে। তারা বলেন, তালা উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির কাম ক্যাশিয়ার তপন কুমার সহ কয়েকটি দালাল চক্র মিলে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্য করে আসছে। এই সিন্ডিকেট তৈরির মাধ্যমে মিস কেস, নামজারী কেস করে নিজস্ব দালালের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। কোন ফাইল বা কোন কেসে কত টাকা ঘুষ দিতে হবে তাও পূর্বের নিধারণ করে দিয়েছে এই সিন্ডিকেট। প্রতিটি নামজারি করতে আসা ব্যক্তির কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা সামান্য ত্রুটি থাকলে ১৫,২০ এমনকি ৩০ হাজার টাকা দেয়া লাগে । দাবিকৃত টাকা কেউ না দিলে তার ওই নামজারি বাতিল করে দেয়া হয় বলেও অভিযোগ নাজির তপন কুমারের বিরুদ্ধে। ভূমি সংশ্লিষ্ট সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিজস্ব নিয়মে চলছে এই ভূমি অফিসগুলো। তাদের অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতায় জিম্মি হয়ে পড়েছেন জমি মালিক ও অংশীদারসহ সেবাগ্রহীতারা। কেউ এসিল্যান্ডের নাজির তপন কুমারের ঘুষের টাকা দিতে অস্বীকার জানালে তার নামজারি নথি ও মিস কেসের ফাইল আটকে রাখা হয় দীর্ঘদিন। অন্যদিকে অবৈধ দখল দেয়া প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে জমির প্রকৃত মালিক মিস কেস করে ঘুষ না দিলেই পড়েন মহাবিপদে। ঘুষের নির্ধারিত টাকার কম দিলেও ভুক্তভোগীদের এসিল্যান্ডের নাজির তপন কুমারের অফিসের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ইসলামকাটি ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর হোসেন জানান ,তার কাছ থেকে সাতটি নামপত্তন বাবদ সাত হাজার টাকা নিয়েছে নাজির তপন কুমার ।ডিসিয়ার ও খাস খতিয়ারের জমি পাইয়ে দেওয়ার জন্য নেওয়া হচ্ছে মোটা অংকের টাকা।
এ বিষয়ে নাজির তপন কুমার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন ,আসেন একসাথে বসে মিষ্টি খাই ।তালায় প্রতিটা সাংবাদিকের সাথে আমার ভালো সম্পর্ক আছে বলে ফোন কেটে দেয়।
তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মোঃরাসেল সাহেব মুঠোফোনে বলেন,আমি এ বিষয় সম্পর্কে আগে পরে অবগত নই। খোঁজ নিচ্ছি কোন দূর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেব।