রঘুনাথ খাঁঃ সাতক্ষীরা জেলা মন্দির সমিতির বার্ষিক
সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ১২টায় পুরাতন সাতক্ষীরা
মায়ের বাড়ির নাটমন্দির প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন
সমিতির সভাপতি অ্যাড. সোমনাথ ব্যাণার্জী।
বার্ষিক সাধারণ সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন মন্দির সমিতির উপদেষ্টা
বিশ্বনাথ ঘোষ, ডাঃ প্রশান্ত কুণ্ডু, সহসভাপতি দীলিপ চ্যাটার্জী,
অ্যাড. তারক মিত্র, স্বপন কুমার শীল, বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ি মিশন দত্ত,
মানবাধিকার কর্মী রঘুনাথ খাঁ, তরুন গুহ, নারায়ন মজুমদার, বিকাশ
ঘোষ, বিকাশ ঘোষ, সুজন বিশ্বাস প্রমুখ।দুঃসাহসিক চুরি,
অনুষ্ঠান শুরুতেই গীতা পাঠ ও বার্ষিক কর্ম পরিকল্পনার প্রতিবেদন পাঠ
করেন মন্দির সমিতির কোষাধ্যক্ষ আনন্দ সরকার। বিগত এক বছরের আয় ও
ব্যয় এর হিসাব তুলে ধরেন মন্দির সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ
আমিন। সভায় সাতক্ষীরা জেলাজুড়ে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া শ্যামনগরের
বৈশখালির ডাঃ অনিমেষ পরমান্য অপহরণ, সদরের মাগুরা বউবাজারের বীথিকা
সাধু হত্যা, কালিগঞ্জের চম্পাফুলের মাধবী মণ্ডল ও তার ছেলে শঙ্কর মণ্ডলকে
গত ১৫ এপ্রিল প্রতিপক্ষ সামাদ গাজী ও আলমগীর কবীরের অমানবিক
নির্যাতন করে জমি ও ঘরবাড়ি জবরদখলের চেষ্টা, শ্যামনগরে যশোরেশ্বী
কালীমন্দিরে কালী মায়ের মুকুট চুরির ঘটনায় দায়সারা পুলিশ
প্রতিবেদন, মন্দিরের প্রধান ফটকের সামনে মন্দিরের জায়গা দখল করে
আকবর মোল্লা ও বেল্লাল হোসেন এর দোকার ঘর নির্মাণ, জেলেখালিতে
বিষ্টু পরমান্য এর জমির উপর দিয়ে জোরপূর্বক জহির গাজীর রাস্তা
নির্মাণ, হরিণগরের দীলিপ গাইনের ঘরবাড়ি পোড়ানো মামলার চুড়ান্ত
প্রতিবেদন ও তার তিন ভাইপোর নামে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দেওয়া,
সাতক্ষীরার সরকার পাড়ায় শ্যামল রাহার বাড়িতে, কাটিয়ার পিসি
জুয়েলাার্সের মালিকের বাড়িতে, মধুমোল্লারডাঙিতে সাংবাদিক
রামকৃষ্ণ চক্রবর্তীর বাড়িতে পুরাতন সাতক্ষীরায় অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক
কর্মী গোবিন্দ ঘোষের বাড়িতে, সাতক্ষীরা মায়ের বাড়িতে , কাটিয়া
মায়ের বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরিসহ বিভিন্ন ঘটনার প্রতিকার ও
বিচার নিয়ে আলোকপাত করা হয়। এ ছাড়া চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুর
দ্রুত মুক্তির বিষয়টি ও আলোচনায় স্থান পায়। অনুষ্ঠান শুরুতেই প্রয়াত
সদস্যদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা
হয়।
সভায় নাটমন্দিরের ছাদ, মন্দিরের প্রাচীর উচ্চকরণসহ বিভিন্ন খাতে
ব্যয়বহনে সকল উপদেষ্টা ও আজীবন সদস্যদের এগিয়ে আসার আহবান
জানানো হয়। একইসাথে বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থিতি বাড়ানোর
জন্য গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জেলা মন্দির সমিতির সাধারণ
সম্পাদক নিত্যানন্দ আমিন।