রঘুনাথ খাঁঃসাতক্ষীরা জজ আদালতের সাবেক পিপি, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাড.
আব্দুল লতিফ ও তার ছেলে রাসেলকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
সাতক্ষীরা শহরের রসুলপুর এলাকার ৫তলা বাড়ি ফ্লাট আকারে উকিল কমিশন
করে বিক্রিকালে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে খুলনার বয়রা এলাকা থেকে
তাদেরক আটক করা হয়।অ্যাড. আব্দুল লতিফ (৫৮) সাতক্ষীরা সদরের কামারবাসয়সা গ্রামের
অধুনা শহরের রসুলপুরের মৃত মুনসৃর রহমানের ছেলে। তার ছেলে রাসেল
(৩৫) কামারবায়সা গ্রামের বসবাস করে।
স্থানীয় একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বিগত আওয়ামী লীগ
সরকারের সময়ে সাংসদ মোস্তাক আহম্মেদ রবির মাধ্যমে পিপি হয়ে
আদালত পাড়া থেকে বহু টাকা উপার্জন করেন আব্দুল লতিফ। এর আগে
তিনি দূর্ণীতির দায়ে বিডিআর থেকে চাকুরিচ্যুত হন। ভারতীয়
গরুর খাটাল পরিচালনা করার সূযোগে তিনি বহু টাকার মালিক বনে
যান। শহরের রসুলপুরে তৈরি করেন ৫তলা বিশিষ্ঠ মনোরম অট্টালিকা।
বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর লতিফ
আটটি হত্যা ও নাশকত মামলার ও তার ছেলে রাসেল তিনটি মামলার
আসামী হন। একপর্যায়ে তারা বাবা-ছেলে পালিয়ে খুলনায় গিয়ে
বয়রা এলাকায় একটি বাড়িতে বসবাস করতেন। সম্প্রতি তারা সাতক্ষীরা
শহরের রসুলপুর এলাকার পাঁচতলা বাড়িটির একাংশ উকিল কমিশনের
মাধ্যমে ফ্লাট আকারে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে আরো কয়েকটি ফ্লাট
বিক্রি করার জন্য রেজিস্ট্রি করতে সাতক্ষীরায় আসতে না পেরে উকিল
কমিশন করে সাব রেজিস্টারকে খুলনার বয়রায় নিয়ে ৩০ লাখ টাকা বিশেষ
সুবিধা দিয়ে ফ্লাট রেজিস্ট্রি করার উদ্যোগ নেন। দলিল লেখক হিসেবে
দায়িত্ব পালন করার জন্য সাতক্ষীরা সদর দলিল লেখক সমিতির সাংগঠণিক
সম্পাদক মহিদুল ইসলামকে দায়িত্ব দেন। সে অনুযায়ি শুক্রবার সকাল
১০টার দিকে সদর সাব রেজিষ্টার অমায়িক বাবু বয়রায় পৌঁছানোর
পরপরই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা গোয়েন্দা শাখা পুলিশের
(ডিবি) একটি দল খুলনার বয়রা এলাকার ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে
অ্যাড. আব্দুল লতিফ ও তার ছেলে রাসেলকে আটক করে। পরে তাদেরকে
সাতক্ষীরার গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। তাদেরকে
জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
সাতক্ষীরা গোয়েন্দা শাখা পুলিশের পরিদর্শক মো.
নিজামউদ্দিন আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ডিবি হেফাজতে
তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এবিষয় পরবর্তিতে প্রেসব্রিফিং
করে বিস্তারিত জানানো হবে।