নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ সাতক্ষীরার বিভিন্ন সীমান্ত থেকে চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৭ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি, ঔষধ ও গলদা চিংড়ির রেণু জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ (বিজিবি)। সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া উপজেলার ভোমরা, কুশখালি, ঘোনা, তলুইগাছা, বাঁকাল চেকপোষ্ট, কাকডাঙ্গা, মাদরা, সুলতানপুর, চান্দুড়িয়া ও হিজলদী বিওপির আওতাধীন বিভিন্ন সীমান্ত থেকে শনিবার এসব মালামাল জব্দ করা হয়। তবে, বিজিবি এসময় কোন চোরাকারবারীকে আটক করতে সক্ষম হননি।
বিজিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা বিওপি’র বিশেষ আভিযানিক দল দাসপাড়া নামক সীমান্ত থেকে ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি, ঘোনা বিওপি’র বিশেষ আভিযানিক দল বিনেরপোতা নামক স্থান হতে ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় গলদা চিংড়ি মাছের রেণু, কুশখালি বিওপি’র বিশেষ আভিযানিক দল আমবাগান নামক স্থান হতে ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ঔষধ, তলুইগাছা বিওপি’র পৃথক দুটি বিশেষ আভিযানিক দল মজুমদারের খাল ও শালবাগান নামক স্থান হতে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ঔষধ এবং বাঁকাল চেকপোষ্ট এর বিশেষ আভিযানিক দল বাঁকাল থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ঔষধ জব্দ করেন।
এছাড়া, কলারোয়া উপজেলার কাকডাঙ্গা বিওপির পৃথক তিনটি বিশেষ আভিযানিক দল কেড়াগাছি, গেড়াখালি ও ভাদিয়ালী নামক স্থান হতে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি ও ঔষধ, মাদরা বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল শিশুতলা নামক স্থান হতে ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ঔষধ, হিজলদী বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল রাজপুর নামক স্থান হতে ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ঔষধ, সুলতানপুর বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল কামারডাঙ্গা নামক স্থান হতে ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ঔষধ এবং চান্দুড়িয়া বিওপির পৃথক দুটি বিশেষ আভিযানিক দল কাঁদপুর আমবাগান ও গোয়ালপাড়া নামক স্থান হতে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ঔষধ জব্দ করেন। জব্দকৃত মালামালের সর্বমোট বাজার মূল্য ১৭ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা। তবে, বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারীরা পালিয়ে যাওয়ায় তারা তাদের আটক করতে সক্ষম হননি।
সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোঃ আশরাফুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে চোরাকারবারীরা উক্ত মালামাল অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচার করার সময় তা জব্দ করা হয়। জব্দকৃত ভারতীয় মালামাল সাতক্ষীরা কাস্টমসে জমা দেয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।