শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে রুহুল আমিন নামে এক যুবককে ডেকে নিয়ে অপহরণ, মারধর ও ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৈখালী ইউনিয়নের পূর্ব কৈখালী গ্রামের মৃত গোলাম গাজীর ছেলে রুহুল আমিনকে শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে ০১৯০৫৮১৩২৯৯ নম্বর থেকে পূর্বপরিচিত হিসেবে ফোন করেন একই ইউনিয়নের বৈশখালী গ্রামের আদমের ছেলে নুরুল। ফোনে তাকে কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন কৈখালী এসআর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আসতে বলা হয়।
রুহুল আমিন সেখানে পৌঁছালে নুরুলসহ কৈখালীর কারিকরপাড়া এলাকার মুছা কারিকরের ছেলে নান্টু, আস্তাখালী গ্রামের নুরালী গাজীর ছেলে মাজহারুল এবং আরও কয়েকজন অপরিচিত তাকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে শ্যামনগর সদরের গোপালপুর রোডে জাসাস নেতা রায়হানের বাসায় নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী রুহুল আমিন।
রুহুল আমিন প্রতিবেদককে বলেন, মারধর ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং নানা ভয়ভীতি ও নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেন এছাড়া বিভিন্ন দেনাপাওনার কথা যাহার সাথে আমি কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নই এমন স্টেটমেন্ট করিয়ে মিথ্যা স্বীকারোক্তি নিয়ে ভিডিও ধারণ করেন অভিযুক্তরা। একপর্যায়ে তাকে পরিবারের কাছে ফোন করে ৫ লাখ টাকা নিয়ে আসতে বলা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও জানান।
জীবন বাঁচাতে রুহুল আমিন বাধ্য হয়ে তার আপন দুলাভাই ও মায়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। পরে বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা শ্যামনগর থানা পুলিশকে জানান এবং উদ্ধারের জন্য সহযোগিতা চান। পরিবারের দাবি, পরিস্থিতির কারণে তারা অপহরণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ৫০ হাজার টাকা নগদ দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁর নির্দেশনায় শ্যামনগর থানা পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে। শনিবার দিবাগত রাতে শ্যামনগর বাস টার্মিনাল সংলগ্ন একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে রুহুল আমিনকে উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং অপহরণ, নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগের সত্যতা কতটুকু—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।