
নিজস্ব প্রতিনিধি:
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী নিহত হয়েছেন। সোমবার দুপুরে লেবাননের নাবাতিয়েহ এলাকার জেবদিন গ্রামে তাঁদের আবাসস্থলে এই হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম (৩৮) এবং আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের মো. নাহিদুল ইসলাম (২৬)। শফিকুল ইসলাম ওই গ্রামের আফসার আলীর একমাত্র ছেলে এবং নাহিদুল ইসলাম আব্দুল কাদেরের ছেলে।

বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্র জানায়, (১১ মে) সোমবার রাত ৮ টায় জেবদিন এলাকার একটি বাড়িতে ইসরায়েলি বাহিনী ড্রোন হামলা চালায়। এতে শফিকুল ও নাহিদুল ছাড়াও একজন সিরীয় নাগরিক নিহত হন। ওই এলাকায় এটি ছিল ইসরায়েলি বাহিনীর দ্বিতীয় দফা হামলা। এর আগে জেবদিন পৌরসভার একটি রুটি বহনকারী ভ্যানে ড্রোন হামলায় আরও দুই স্থানীয় বাসিন্দা প্রাণ হারান।
বর্তমানে তাঁদের মরদেহ নাবাতিয়েহর নাবিহ বেররী হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
সাতক্ষীরায় নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে মাসখানেক আগেই তাঁরা লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন। শফিকুলের প্রতিবেশী ও ভালুকা চাঁদপুর মডেল হাইস্কুলের শিক্ষক আল কালাম আবু ওয়াহিদ জানান, গত ২০ রমজান অনেক স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে গিয়েছিলেন শফিকুল। তিনি মা-বাবার একমাত্র সন্তান ছিলেন। নাহিদুল ও শফিকুলের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ বাবা-মা। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে আশপাশের বাতাস। ধুলিহর ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন মিঠু জানান, গত ২০ রমজান অনেক স্বপ্ন নিয়ে লেবানন গিয়েছিলেন শফিকুল। পরিবারের সুদিন ফেরানোর লড়াই শুরুর আগেই এভাবে চলে যাওয়া কেউ মেনে নিতে পারছেন না।
ধুলিহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজান চৌধুরী জানান, প্রবাসী আফসার আমার ওয়ার্ডের| আফসার মানুষ হিসেবে একজন ভালো মানুষ |তার একমাএ ছেলে শফিকুল ইসলাম| শফিকুলের মৃত্যুতে আমরা সবাই শোকাহত| তার দুই সন্তান রেখে গেছে, দুইটিই কন্যা সন্তান| তারা গরীব পরিবার| আর সরকারের সাহায্যে সহযোগীতার যদি কোন সুযোগ থাকে তা যেন ব্যবস্থা করা হয়|
উপজেলা নির্বাহী অফিসার অর্ণব দত্ত বলেন, আমাদের সাতক্ষীরা প্রবাসী দুইজন রেমিটেন্স যোদ্ধা তারা লেবাননের দক্ষিণ অঞ্চলে বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছে| এর মধ্যে একজন আমাদের সাতক্ষীরা সদরের সন্তান| তিনিই ছিলেন পরিবারের একমাএ সম্বল| সেক্ষেএে জেলা প্রশাসক উপজেলা প্রশাসক সর্বোচ্চ যতটা সাহায্যে তাদেরকে করতে পারে তা করবে| তার পাশাপাশি তাদের লাশ বাংলাদেশে নিয়ে আসার একটা ব্যপার রয়েছে| সে বিষয়ে আমরা এখনি তাদের মাধ্যমে প্রবাসী কল্যাণ কর্মসংস্থান মনএনালয়ের সচিব বরাবর আমরা আবেদন করেছি|
উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর সংঘাত থামেনি। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযানে দেশটিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৮৬৯ জন নিহত হয়েছেন।