
নিজস্ব প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পল্লী থেকে কারিনা দাস (২৩) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মারা যাওয়া কারিনা দাস সাতক্ষীরার সদর উপজেলার বাটকেখালী সঞ্জয় দাসের মেয়ে। মঙ্গলবার(১৭ মার্চ) সকালে তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার কাশিপুর গ্রামের ঋষি পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে । এদিকে ঘটনার পরে দুপুর ১ টার দিকে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে আশাশুনি -সাতক্ষীরা সড়কে কারিনার স্বামী সুজিত দাসের বিচার চেয়ে ও দোষীদের শাস্তির দাবী জানিয়ে মানববন্ধন করে শহরের বাটকেখালি এলাকাবাসী ।
এতে ভূমিহীন নেতা আবদুস সাত্তার সহ বাটকেখালী এলাকার শতাধিক নারী পুরুষ এবং নিয়তের পরিবারের স্বজনরা অংশ নেয় । তাদের দাবী যৌতুকের কারণে তাদের মেয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনায় বাধ্য করেছে কারিনার স্বামী সুজিত দাস ,শশুর তপন দাস, শাশুড়ি লিপি দাস ,ভাসুর শ্যাম দাস ,দেবর অজিত দাস ও মামা শশুর মানিক দাস মিলে ।
কারিনার বাবা সঞ্জয় দাস বলেন , প্রায় পাঁচ বছর আগে তালা উপজেলার কাশিপুর গ্রামের তপন দাসের ছেলে সুজিত দাসের সঙ্গে কারিনা দাসের বিয়ে হয়। তার জামাতা সুজিত টিউশনি করলেও স্থায়ী কোনো আয় ছিল না। এ কারণে বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে সুজিত তার মেয়ে কারিনার ওপর চাপ সৃষ্টি করতেন। এছাড়া শ্বশুরবাড়িতে নানা ধরনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার ভোররাতে হঠাৎ শ্বশুরবাড়ি থেকে মেয়ে কারিনার মৃত্যুর খবর পান তারা। পরে জানতে পারেন, কাশিপুর গ্রামের বাড়ি থেকে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পাটকেলঘাটা থানা পুলিশ।
কারিনার মামা গৌর দাস বলেন, তার ভাগ্নীর মৃত্যু কোনোভাবেই স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না এর পেছনের কোন রহস্য লুকিয়ে আছে। তাই দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
কারিনার মাসতুতো ভাই সাগর দাস বলেন, জন্মের পর বাবা-মা আদর করে মেয়ের নাম রেখেছিলেন কারিনা। ছোটবেলা থেকেই সে ছিল শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের। পড়াশোনার পাশাপাশি তাকে নানা হাতের কাজও শেখানো হয়েছিল, যেন সে নিজের জীবন সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারে।
কিন্তু স্বপ্নভরা সেই মেয়েটির জীবন বিয়ের পর থেকেই যেন অন্যরকম হয়ে যায়। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনের মধ্যেই কাটছিল তার দিনগুলো। সকালে হঠাৎ তার মৃত্যুর খবরে যেন এক অপ্রত্যাশিত শোকের ছায়া নেমে এসেছে । তার দাবি, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মমতাজ মজিদ বলেন, মঙ্গলবার সকালে কারিনাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হলে ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়। তবে তার শরীরের কিছু ক্ষতও দেখা গেছে বলে জানান তিনি ।
পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি ) লুৎফুল কবির বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠায় । এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে । ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে
বলে জানান তিনি ।