
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
লোহিত সাগরে হামলা, বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুঁশিয়ারিকে অগ্রাহ্য করে আলোচনায় উঠে এসেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা।
ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী এখন শুধু ইয়েমেন সীমিত নয়—তারা হয়ে উঠেছে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির অন্যতম বড় শক্তি।
হুথি হামলায় কার্গো জাহাজ ডুবি, নিহত ৩
২০২৫ সালের জুলাইয়ে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় লোহিত সাগরে একটি কার্গো জাহাজ ডুবে যায়, নিহত হন ৩ জন।
২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে তারা প্রায় ৭০টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৪টি জাহাজ ডুবে গেছে, ৭ জন নাবিক নিহত হয়েছেন।
হুথিদের দাবি—তারা শুধুমাত্র ইসরায়েল-সম্পৃক্ত জাহাজগুলোতে হামলা চালায়। তবে বাস্তবে বহু নিরপেক্ষ বা নির্দোষ জাহাজও তাদের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
🚀 ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও স্নাইপার বোটের ব্যবহার
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু হয় ২০২৩ সালের নভেম্বরে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে একটি ড্রোন তেল আবিবে আঘাত হানে—নিহত ১, আহত ১০।
হুথিরা এখন পর্যন্ত ১০০টিরও বেশি জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যেগুলোর মধ্যে অনেকে লোহিত সাগর বা অ্যাডেন উপসাগর দিয়ে যাত্রা করছিল।
🛰️ কোন শক্তি পেছনে?
ইরান হুথিদের প্রশিক্ষণ, অস্ত্র ও গোয়েন্দা সহায়তা দেয় বলে দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব।
ইরানি ড্রোন প্রযুক্তি, ক্ষেপণাস্ত্র, এমনকি ড্রোন কারখানাও হুথিদের সরবরাহ করেছে বলে জানান সামরিক বিশ্লেষকরা।
হুথিরা হিজবুল্লাহর কাছ থেকেও পরামর্শ ও সামরিক সহায়তা পেয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের Combating Terrorism Center জানিয়েছে।
🌍 কে কী করছে হুথিদের মোকাবেলায়?
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ১২ দেশের জোট “Prosperity Guardian” নামে সমুদ্রপথে অভিযান চালাচ্ছে।
২০২৪ সাল থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র হুথিদের ঘাঁটিতে দূরপাল্লার বিমান হামলা চালায়।
যুদ্ধবিরতি ও চুক্তি সত্ত্বেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রাখে হুথিরা।
📌 হুথিরা আসলে কারা?
হুথিরা হচ্ছে ইয়েমেনের শিয়া জায়েদি সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্বকারী গোষ্ঠী।
আনুষ্ঠানিক নাম: আনসারুল্লাহ (আল্লাহর পক্ষে)।
গোষ্ঠীটির নেতৃত্বে রয়েছেন আব্দুল মালিক আল-হুথি।
📍 তারা নিয়ন্ত্রণ করে:
রাজধানী সানা,
লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চল,
এবং ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল—যেখানে বেশিরভাগ জনগণ বসবাস করে।
তারা সেখানে কর আদায়, মুদ্রা ছাপানোসহ একটি ডি-ফ্যাক্টো সরকার পরিচালনা করছে।
📉 পরিণতি কী?
যুদ্ধ ও হামলায় এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত, বাস্তুচ্যুত ৪০ লাখের বেশি।
লোহিত সাগর দিয়ে বিশ্ব বাণিজ্যের ১৫% পণ্য চলাচল করে, হুথি হামলার কারণে এই পথ অনেক কোম্পানি এড়িয়ে চলছে।
🧭 শেষ কথা: হুথিদের গুরুত্ব বাড়ছে
হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুথিদের নিয়ে গঠিত "প্রতিরোধ অক্ষ" যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আধিপত্যের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক প্রতিরোধ শক্তি হয়ে উঠেছে।
তাদের ‘পাত্তা না দেওয়া’ নীতিতে নতুন করে বিপদে পড়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, কূটনীতি ও নিরাপত্তা।