নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৪০নং বকচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ২১৪ শিক্ষার্থীর
এই বিদ্যালয়ে বর্ষা এলেই যেন নতুন করে শুরু হয় দুর্ভোগ। নিচু মাঠে অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়।
ভবন ও ওয়াশব্লকের মাঝের মাঠ ডুবে থাকায় শিক্ষার্থীদের চলাচলে ভোগান্তি বাড়ে। এর সঙ্গে বিদ্যালয়ের
প্রধান গেটের সামনে থাকা খোলা পাকা ড্রেন তৈরি করেছে নিরাপত্তার নতুন শঙ্কা। সব মিলিয়ে
বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে যাচ্ছে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফাতেমা খাতুন বলেন,
বর্ষা মৌসুমজুড়েই মাঠে পানি জমে থাকে। ফলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। বিশেষ করে
ওয়াশব্লকে যাতায়াত করতে তাদের চরম অসুবিধায় পড়তে হয়। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টি
এক শিফটে পরিচালিত হয়। বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে ২১৪ জন। সাতটি কক্ষের মধ্যে একটি অফিস কক্ষ
হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাকি ছয়টি শ্রেণিকক্ষ। এর মধ্যে তিনটি পাকা, দুটি টিনশেড এবং একটি
কক্ষ ত্রিপাল দিয়ে তৈরি। অবকাঠামোগত এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে
বিদ্যালয়ের মাঠ। মাঠটি নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে পানি জমে যায়। পুরো বর্ষা
মৌসুমে মাঠটি অনেকটা জলাবদ্ধ অবস্থায় থাকে। ফলে এক শ্রেণিকক্ষ থেকে অন্য জায়গায় যাওয়া,
ওয়াশব্লকে যাতায়াত কিংবা বিদ্যালয়ের অন্যান্য স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। শুধু
মাঠের জলাবদ্ধতাই নয়, বিদ্যালয়ে প্রবেশের পথেও রয়েছে ঝুঁকি। প্রধান গেটের সামনে দিয়ে নির্মাণ
করা হয়েছে একটি পাকা ড্রেন। ড্রেনটি খোলা থাকায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময়
সতর্ক হয়ে চলতে হয়। ছোট শিশুদের জন্য বিষয়টি আরও উদ্বেগের বলে মনে করছেন বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফাতেমা খাতুন এ সমস্যা সমাধানে গত ২৫ আগস্ট ২০২৬ সাতক্ষীরা
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে মাঠে মাটি ভরাট ও ড্রেনে ঢাকনা দেওয়ার ব্যবস্থা করার আবেদন
করেছেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, বিদ্যালয়ের মাঠটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১০০ ফুট এবং প্রস্থ ৮০ ফুট।
অর্থাৎ মাঠের আয়তন প্রায় ৮ হাজার বর্গফুট বা ৭৪৩ বর্গমিটার। এত বড় জায়গাজুড়ে বর্ষার পানি
জমে থাকায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক বলেন, বিদ্যালয়ের ভবন ও ওয়াশব্লকের
মাঝখানে মাঠটি থাকায় পানি জমে গেলে শিক্ষার্থীদের ওয়াশব্লকে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে
প্রধান গেটের সামনে খোলা ড্রেন থাকায় নিরাপদে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়াও ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায়
মাঠটি মাটি দিয়ে উঁচু করা এবং প্রধান গেটের সামনের খোলা ড্রেনে ঢাকনা দেওয়াকে জরুরি বলে
মনে করছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাঁদের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিলে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ
কমবে এবং বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরবে। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য
বিদ্যালয়ের মাঠ শুধু খেলার জায়গা নয়; এটি তাদের দৈনন্দিন চলাচল ও শারীরিক বিকাশেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অথচ বকচরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্ষা এলেই সেই মাঠ পরিণত হয় জলাবদ্ধ স্থানে। ফলে স্বাভাবিক
পরিবেশে পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদ্যালয়ের প্রবেশপথের খোলা
ড্রেন। অভিভাবকদের কাছেও এটি উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথ যদি নিরাপদ না
হয়, তাহলে ছোট শিশুদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠাতে অনীহা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের
আবেদন তাই শুধু মাঠ ভরাটের আবেদন নয়; এটি ২১৪ শিক্ষার্থীর জন্য একটি নিরাপদ ও স্বাভাবিক শিক্ষার
পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষায় বিদ্যালয়টি। মাঠে মাটি
ভরাট ও ড্রেনে ঢাকনা দেওয়ার ব্যবস্থা হলে বর্ষায় জলাবদ্ধতা এবং বিদ্যালয়ে প্রবেশের ঝুঁকি—দুই
সমস্যারই অনেকটা সমাধান হবে বলে মনে করছেন শিক্ষক ও স্থানীয়রা।