পাইকগাছা প্রতিনিধি:খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লতা ইউনিয়নের উলুবুনিয়া নদী এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সরকারি জমি ও সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নদী ও সরকারি এই সম্পত্তি জবরদখল মুক্ত করার দাবিতে এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের প্রতিকার চেয়ে ১০ আগস্ট সোমবার খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছেন এলাকাবাসী। উপজেলার পুটিমারী ও শামুকপোতা গ্রামের সর্বসাধারণের পক্ষ থেকে এই স্মারকলিপি দেওয়া হয়।স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, লতা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য প্রশান্ত মণ্ডল ও তাঁর ভাই কুমারেশ মণ্ডল উলুবুনিয়া নদীর অংশ ও পাউবোর সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে বহুতল পাকা ভবন নির্মাণ করেছেন। এছাড়া শামুকপোতা বাজার এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি দখল করে আটটি দোকানঘর ও একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণেরও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে নির্মাণকাজ শুরু হলে পাইকগাছার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে প্রশাসনের সেই নির্দেশ সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করে পরবর্তীতে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়। বর্তমানে ওই অবৈধ স্থাপনাগুলোতে বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন সরকারি সেবার সংযোগও নেওয়া হয়েছে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। গত ৬ জুলাই এ বিষয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।
এলাকাবাসীর দাবি, তাদের নিকট এস.এ. ম্যাপ, গুগল ম্যাপের চিত্র ও ঘটনাস্থলের আলোকচিত্রসহ দখল সংক্রান্ত অকাট্য প্রমাণ রয়েছে, যা যেকোনো তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপনের জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছেন।
সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার স্বার্থে উলুবুনিয়া নদী ও পাউবোর জমি দখলের ঘটনায় জরুরি ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সরকারি সম্পত্তি পুনরুদ্ধার, প্রশাসনের নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদীর প্রকৃত সীমানা পুনর্নির্ধারণসহ ভবিষ্যতে এ ধরনের জবরদখল রোধে কার্যকর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।