ডেস্ক রিপোর্ট: কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের উচ্ছ্বাস যেন পরিণত হচ্ছে শোকের মিছিলে। ঈদের সময়ের ভয়াবহ দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও স্রোতের টানে ভেসে গেলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী। উদ্ধার হয়েছে দুজনের মরদেহ, নিখোঁজ রয়েছেন আরেকজন।মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সকালে হিমছড়ি সৈকতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের তিন শিক্ষার্থী—কে এম সাদমান রহমান সাবাব, অরিত্র হাসান ও আসিফ আহমেদ। তাদের মধ্যে সাবাবের মরদেহ উদ্ধার হয় একই রাতেই এবং বুধবার সকালে ভেসে ওঠে আসিফের মরদেহ। নিখোঁজ রয়েছেন অরিত্র হাসান।এই মর্মান্তিক ঘটনার মধ্যেও একই জায়গায় দেখা যাচ্ছে নিরাপত্তাহীনতা ও অব্যবস্থাপনার চিত্র। সাগর তীরে পর্যটকের ঢল থাকলেও নিরাপদ গোসলের জন্য নেই কোনো পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা। কেবলমাত্র কলাতলী থেকে লাবণী পর্যন্ত ৫ কিলোমিটারে ২৬ জন লাইফগার্ড থাকলেও ১১৫ কিলোমিটার বেলাভূমি পুরোপুরি অনিরাপদ।ট্যুরিস্ট ক্লাব ও টুয়াকের সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, গত তিন দশকেও নির্দিষ্ট নিরাপদ গোসলের ব্যবস্থা হয়নি। সরকারি আয় বাড়লেও নিরাপত্তায় আগ্রহ নেই কারও।পর্যটকদের সচেতন করতে মাইকিং ও লাল পতাকা টাঙানো হলেও বাস্তবে অনেকেই তা মানছেন না। সি-সেইফ লাইফগার্ডের কর্মী ওসমান বলেন, একসাথে হাজার হাজার পর্যটকের জন্য মাত্র কয়েকজন কর্মী—সম্ভব নয় পুরো সৈকত সামলানো।সি-সেইফ প্রতিষ্ঠানের তথ্যমতে, স্রোতের টানে ভেসে গতবছর আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে মারা গেছেন পাঁচজন পর্যটক। এর আগের ৬ বছরে ভেসে গিয়ে মারা গেছেন ৪৯ পর্যটক। সদ্যগত কোরবানির ঈদে কলাতলী সৈকতে গোসলে নেমে রাজশাহীর শাহিনুর রহমান (৫৮) ও সিফাত রহমান (২০) নামের পর্যটক বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়। তারাসহ এ সময়ে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ৬ জনের মৃত্যু হয়। এদের মাঝে তিনজন পর্যটক, একজন স্থানীয়। অপর দুজনের পরিচয় শনাক্ত হয়নি।
পরিবেশবিদ তৌহিদ বেলাল বলেন, সমুদ্র সি-নেটিংয়ের মতো নিরাপদ ব্যবস্থা করতে কয়েক লাখ টাকাও কেউ খরচ করতে রাজি না। অথচ প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা আসে এই সৈকত থেকে।ট্যুরিস্ট পুলিশের ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, সৈকতের অনেক জায়গায় স্রোতের তীব্রতা থাকে, লাল পতাকা টাঙিয়ে সতর্কতা দেওয়া হয়। কিন্তু অনেকে নিয়ম না মেনে মৃত্যুঝুঁকিতে পড়েন।কক্সবাজারের এডিএম শাহিদুল আলম বলেন, একযুগ আগে জাল বসানো হয়েছিল নিরাপদ গোসলের জন্য, কিন্তু সেটা ঢেউয়ে ধ্বংস হয়ে যায়। এখন নতুন করে পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে।