
নিউজ ডেস্ক:
নির্বাচনী ইশতেহার ও জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা ও প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৩ মে) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে তিনি বলেন, এ নিয়ে কারো মনে কোনো সংশয়ের কারণ নেই।
প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে বলেন, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরাই জনপ্রশাসনের সঙ্গে সরকারের প্রধান সেতুবন্ধন। তাদের সততা, কর্মদক্ষতা ও দায়বদ্ধতার ওপর সরকারের কার্যক্রমের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমুখী শাসনের প্রত্যাশায় থাকা সাধারণ মানুষ সরকারের প্রতিটি কাজে সেই আকাঙ্ক্ষার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সুশাসনকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলভিত্তি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এর জন্য প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা, যোগ্য নেতৃত্ব এবং জবাবদিহিতা। জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি সহজ করা, সরকারি সেবা হয়রানিমুক্ত করা এবং প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং বাল্যবিবাহ ও নারী-শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকে আরও কার্যকর, নিয়মিত ও দৃশ্যমান করার পাশাপাশি খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে টিকে থাকতে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও নিজেদের প্রস্তুত রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে অটোমেশন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে জনপ্রশাসনকে আরও সময়োপযোগী, দক্ষ ও স্বচ্ছ করে তোলা সম্ভব। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়েও সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
'সবার আগে বাংলাদেশ' — এই মনোভাব নিয়ে দেশের স্বার্থে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।