নিজস্ব প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মঞ্জুরুল আলম বাপ্পীসহ একাধিক নেতাকর্মীর ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা এবং পরবর্তীতে সৃষ্টি হওয়া রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমানকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে!
আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) জেলা ছাত্রদলের পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল ও কর্মসূচির দিনই ওসির এই প্রত্যাহারের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে তাঁকে কী কারণে প্রত্যাহার বা ক্লোজড করা হয়েছে, সে বিষয়ে জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা ও প্রেস রিলিজ দেওয়া হয়নি ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ আগস্ট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ছাত্রনেতা মঞ্জুরুল আলম বাপ্পী, সিটি কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান এবং ঘোনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসানসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালায়। এতে বাপ্পীসহ একাধিক নেতা গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পর সদর থানায় মামলা দায়ের করা হলেও কোনো উল্লেখযোগ্য আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে এবং আসামিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সাতক্ষীরা সদর উপজেলা ছাত্রদল ও বিভিন্ন ইউনিটের উদ্যোগে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশি ব্যর্থতার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয় এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তারের আলটিমেটাম দিয়ে সদর থানার ওসির পদত্যাগের দাবি তোলেন বক্তারা।
পরবর্তী তে ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় এক প্রেস রিলিজ এর মাধ্যমে ১৭ আগস্ট শহরের নিউ মার্কেট চত্বরে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
এরপরও উল্লেখ যোগ্য আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় এবং ১৫ আগস্ট সাতক্ষীরায় নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ার অভিযোগে আজ সোমবার বিকেল ৫ টায় শহরের নিউ মার্কেট চত্বরে জেলা ছাত্রদলের আহ্বানে এক বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করা হয়। ঠিক এই রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই ওসি মাসুদুর রহমানকে সদর থানা থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ।
এ বিষয়ে ওসির প্রত্যাহার ও আসামি গ্রেফতারের দাবিতে ১৩ আগস্ট আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মহিউদ্দিন মহির কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, সদর থানার ওসিকে প্রত্যাহারের মাধ্যমে তাদের প্রাথমিক দাবির প্রতিফলন ঘটেছে। এ জন্য তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলা পুলিশ সুপারকে ধন্যবাদ জানান। তবে হামলায় জড়িত মূল আসামিরা এখনো অধরা উল্লেখ করে অবিলম্বে সেই চিহ্নিত আসামিদের গ্রেপ্তারে জেলা পুলিশকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ওসির প্রত্যাহারের ঘটনায়, আজকের বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেওয়া জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন ইসলাম জেলা বিএনপি ও পুলিশ প্রশাসন কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন একটি কথা সাফ জানিয়ে দিতে চাই ভবিষ্যতে যদি কেউ স্বৈরাচারের মদদ দিতে চাই তাদের বিরুদ্ধে ঠিক এভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবো।