রঘুনাথ খাঁ ঃ কুমিল্লার মুরাদনগরে সংখ্যালঘু নারী ধর্ষণসহ সারাদেশে নারী নির্যাতন, অপহরণ ও খুনের প্রতিবাদ, বিচার ও দুষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরায় গণ প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টায় শহরের সুলতানপুর পিএন হাইস্কুল মাঠে এ গণপ্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়।
স্বদেশ, এমএসএফ, সিডো, উত্তরণ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদসহ ১০টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠণের আয়োজনে কর্মসুচি চলাকালে বক্তব্য দেন, প্রফেসর মোজাম্মেল হক, মানবাধিকার কর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত, মানবাধিকার কর্মী রঘুনাথ খাঁ, শ্যামল বিশ^াস, লুইস রানা গাইন, রুপা বসু, নাজমা আক্তার, ময়না, আলী নূর খান বাবুল প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, গত ২৬ জুন রাতে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার একটি গ্রামে ঘরের দরজা বেঙে এক গৃহবধুকে বিবস্ত্র করে ধর্ষষের পর ধারণকৃত ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। লালমনিরহাটে চুল কাটতে যেয়ে ১০ টাকা কম দেওয়ায় সেলুন মালিক পরেশ চন্দ্র শীল ও তার ছেলে বিষ্ণুচন্দ্র শীলকে পরিকল্পিতভাবে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে নির্যাতনের পর মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরন্নবী এর ভ‚মিকা প্রশ্নবিদ্ধ। তাকে ওই থানা থেকে অপসারন করে তদন্ত না করলে ন্যয় বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে না। গত ২৩ জুন শ্যামনগরের বনশ্রী শিক্ষা নিকেতনের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী শ্রাবন্তী মÐলকে ছাত্রদল নেতা তাইজুলের নেতৃত্বে অপহরণ করলেও পুলিশ কোন সাধারণ ডায়েরী বা মামলা নেয়নি। তাকে উদ্ধারের দায়িত্ব বিএনপি নেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। একইভাবে গত ৮ মার্চ আশাশুনির পার কাদাকাটি গ্রামের ঝুমা মÐলকে অপহরণের পর তিন মাসেও পুলিশ তাকে উদ্ধার করতে না পারলেও আইনি মারপ্যাচে অপহরণকারিরা রয়ে গেছে বহাল তবিয়তে। এ ছাড়া কয়েকদিন আগে খুলনার বটিয়াঘাটায় এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা, গোপালগঞ্জে এক নারীকে অপহরণের পর ধর্ষণ ও তার মুখমÐল এ্যসিড মেরে ঝলসে দেওয়া, রবিবার আশাশুনির ঘোলা ত্রিমোহিনীতে কেওড়া গাছের সঙ্গে বেঁধে থাকা এক হিন্দু ধর্মালম্বীর লাশ উদ্ধারসহ বেশ কিছু ঘটনায় আইনপ্রয়োগকারি সংস্থার সদস্যদের ভ‚মিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সাতক্ষীরাসহ সারা দেশে মন্দিরের জায়গা, সংখ্যালঘুদের জমি দখল করা হচ্ছে। এ সব ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা ন্যয় বিচার পাচ্ছেন না। বিভিন্ন পত্রপত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ি গত ৫ মাসে ৯১০০ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। সারা দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় ৬৫ হাজারের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সর্বোপরি ধর্ষণের ঘটনায় যাতে কোন আইনজীবী ধর্ষকের পক্ষে না দাঁড়ায় সে জন্য জোর দাবি জানানো হয়।