ডেস্ক রিপোর্ট: টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার পর অস্ট্রেলিয়া শিবিরে নেমে এসেছে হতাশার ছায়া। তবে শেষ ম্যাচে ওমানের বিপক্ষে কোনো অঘটন এড়াতে পুরো দলকে ‘ফোকাসড’ থাকার বার্তা দিয়েছেন প্রধান কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড।
জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো দ্বিতীয় পর্বে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে অজিরা। ক্যান্ডিতে শুক্রবারের শেষ ম্যাচকে এখন ‘ডেড রাবার’ হলেও গুরুত্ব দিচ্ছেন কোচ। তিনি বলেন, দল ভীষণ ভেঙে পড়েছে, কারণ সাধারণত এই সময়টায় তারা নকআউটের লড়াইয়ে থাকে। নিজেদের ভুলেই এমন অবস্থায় পড়তে হয়েছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।
২০তম স্থানে থাকা ওমানের কাছে হারলে সেটিই হবে সবচেয়ে বড় লজ্জা— এমন শঙ্কাও উড়িয়ে দেননি ম্যাকডোনাল্ড। তার ভাষ্য, শেষ ম্যাচে মোটিভেশনের কোনো ঘাটতি থাকবে না এবং বিশ্বকাপের শেষ লড়াইয়ে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে চান তারা।
অস্ট্রেলিয়ার এবারের অভিযান ছিল নানা অস্থিরতায় ভরা। পাকিস্তানে ৩–০ ব্যবধানে সিরিজ হারের পর শ্রীলঙ্কায় আসে দলটি। চোটের কারণে প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডকে পায়নি তারা। অনুশীলনে আঘাত পেয়ে প্রথম দুই ম্যাচে খেলতে পারেননি অধিনায়ক মিচেল মার্শও।
দলের পারফরম্যান্স নিয়ে দেশটির গণমাধ্যমও তীব্র সমালোচনা করেছে। বিশেষ করে খারাপ ফর্মে থাকা ক্যামেরন গ্রিনকে দলে রাখা এবং দীর্ঘদিন ইনজুরিতে থাকা টিম ডেভিডকে চার নম্বরে নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ব্যাট হাতে ধারাবাহিক রান পাচ্ছেন না গ্লেন ম্যাক্সওয়েলও।
প্রথম দুই ম্যাচে সর্বোচ্চ রান করা ম্যাট রেনশ’কে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে না খেলানো নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। একইভাবে বিগ ব্যাশে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সত্ত্বেও শুরুতে স্কোয়াডে জায়গা না পাওয়া স্টিভ স্মিথকে পরে দলে নেওয়া হলেও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাকে না খেলানো সমালোচনার জন্ম দেয়। স্মিথ ও রেনশ’কে ছাড়া ১৬০/৪ থেকে ধসে ১৮১ রানে অলআউট হয়ে আট উইকেটে হারে অস্ট্রেলিয়া।
এদিকে জিম্বাবুয়ে–আয়ারল্যান্ড ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় আফ্রিকার দলটি শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সুপার পর্বে উঠে গেলে অস্ট্রেলিয়ার বিদায় নিশ্চিত হয়।
দল নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক থাকলেও কোচ বলেন, বাইরের সমালোচনা স্বাভাবিক; প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না পাওয়ায় সমালোচনার অধিকার সবারই আছে।
ম্যাকডোনাল্ড জানান, আপাতত পুরো মনোযোগ ওমান ম্যাচে। টুর্নামেন্ট শেষ করে দেশে ফেরার পরই ব্যর্থতার কারণ খতিয়ে দেখা হবে।