
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় কয়েক বছর ধরে মেয়েরা ধারাবাহিকভাবে ছেলেদের পেছনে ফেলে এগিয়ে চলেছে। পাসের হার ও সর্বোচ্চ গ্রেড জিপিএ-৫—দুই সূচকেই ছাত্রীদের সাফল্য ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। শিক্ষাবিদরা বলছেন, এ অগ্রগতি শুধু পরীক্ষার ফলাফলে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা দেশের নারীশিক্ষা, সামাজিক সচেতনতা এবং উন্নয়ন ধারার শক্ত ভিত তৈরি করছে।
২০২৪ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অংশ নেন ২০ লাখ ১৩ হাজার ৫১৭ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্রী ছিলেন ১০ লাখ ২৪ হাজার ৮০৩ জন এবং ছাত্র ছিলেন ৯ লাখ ৮৮ হাজার ৭১৪ জন।
পাস করেছেন ৮ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ জন ছাত্রী, আর ছাত্র পাস করেছেন ৮ লাখ ৬ হাজার ৫৫৩ জন। পাসের হারে ছাত্রীদের সাফল্য ৮৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ, যা ছাত্রদের ৮১ দশমিক ৫৭ শতাংশের চেয়ে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে।
জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও মেয়েরা এগিয়ে। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৭৭৬ জন ছাত্রী, আর ছাত্র পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৩৫৩ জন। ছাত্রদের তুলনায় ১৫ হাজার ৪২৩ জন বেশি ছাত্রী সর্বোচ্চ ফল অর্জন করেছেন।
২০২৩ সালেও একই দৃশ্যপট। ২০ লাখ ৪১ হাজার ৪৫০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রী ছিলেন ১০ লাখ ৩১ হাজার ৬৪৭ জন এবং ছাত্র ১০ লাখ ৯ হাজার ৮০৩ জন। পাস করেছেন ১৬ লাখ ৪১ হাজার ১৪০ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ছিলেন ৮ লাখ ৪৪ হাজার ৭৩৬ জন, যা ছাত্রদের চেয়ে প্রায় ৪৮ হাজার বেশি।
জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্রী ছিলেন ৯৮ হাজার ৬১৪ জন এবং ছাত্র ছিলেন ৮৪ হাজার ৯৬৪ জন।
২০২২, ২০২১, এমনকি ২০২০ সালেও ছাত্রীদের সাফল্য একই ধারায় অব্যাহত ছিল। প্রতিবারই পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হারে মেয়েরা ছেলেদের পেছনে ফেলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেয়েদের এ সাফল্যের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কাজ করছে:
মনোযোগ ও অধ্যবসায়: মেয়েরা সাধারণত পড়াশোনায় বেশি মনোযোগী এবং নিয়মিত সময় দেয়।
পারিবারিক সহায়তা: নারীর শিক্ষার গুরুত্ব এখন অনেক পরিবারেই স্বীকৃত। ফলে তারা মেয়েদের লেখাপড়ায় উৎসাহ দেন।
সরকারি উদ্যোগ: উপবৃত্তি, বিনামূল্যে বই, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কর্মসূচি মেয়েদের স্কুলে রাখছে।
লক্ষ্য নির্ধারণ: ছাত্রীদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে লক্ষ্য ও সচেতনতা বেশি, যা সাফল্যে সহায়তা করছে।
২০০১ সালে এসএসসি পরীক্ষার পাসের হার ছিল মাত্র ৩৫.২২ শতাংশ, আর জিপিএ-৫ পেয়েছিল মাত্র ৭৬ জন। সেখানে ২০২৪ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই লাখে। এর মধ্যে মেয়েদের অংশগ্রহণ, পাসের হার এবং ফলাফলে দৃশ্যমান অগ্রগতি নজরকাড়া।
বিশেষ করে ২০১৪ সাল থেকে জিপিএ-৫ অর্জনের সংখ্যা এক লাখের উপরে চলে যায়। সর্বাধিক জিপিএ-৫ পাওয়া বছর ছিল ২০১৪, যেখানে ১ লাখ ৪২ হাজার ২৭৬ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ গ্রেড পান।