
জহর হাসান সাগর:
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণকাটি গ্রামে আর্সেনিক দূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সুপেয় পানির তীব্র সংকটের কারণে গত দুই দশকে আর্সেনিকজনিত রোগে অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এর মধ্যে একই পরিবারের চারজন সদস্যের মৃত্যু এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের অধিকাংশ টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা অত্যন্ত বেশি। দীর্ঘদিন ধরে জনস্বাস্থ্য বিভাগের নিয়মিত পানি পরীক্ষা ও কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায়, ঝুঁকি জেনেও সেই পানি ব্যবহার করছেন প্রায় দেড় লাখ মানুষ। ফলে দিন দিন বাড়ছে আর্সেনিক আক্রান্তের সংখ্যা।
ভুক্তভোগী রুমানা বেগম জানান, তার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িসহ পরিবারের চারজন সদস্য আর্সেনিকজনিত রোগে মারা গেছেন। বর্তমানে তিনিও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন এবং সন্তানদের নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। পরিবারে উপার্জন করার মতো কেউ না থাকায় তিনি কষ্টে সংসার চালাচ্ছেন। সুপেয় পানির জন্য বাড়ির সামনে একটি ট্যাংক ছিল, সেটিও এখন নষ্ট। ফলে তিনি আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছেন।
গ্রামবাসীরা জানান, গ্রামে অন্তত ৩০০ জন মানুষ ইতোমধ্যে আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়েছেন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। একটি এনজিওর পক্ষ থেকে পুকুরের পানি সরবরাহের জন্য একটি ট্যাংকের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, কিন্তু সেটিও বর্তমানে নষ্ট হয়ে গেছে। পুকুরটি আবর্জনায় ভরে যাওয়ায় সেই পানি আর পানযোগ্য নেই। আগে গ্রামের মানুষ সেই পানি ব্যবহার করলেও এখন তা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে তারা চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন এবং বিশুদ্ধ পানির অভাবে ভুগছেন।
জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. মফিদুল হক লিটু জানান, বিষয়টি বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, কিন্তু এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। মানুষ এখনো নিরাপদ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্সেনিকের কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। প্রাথমিকভাবে ত্বকে কালো বা সাদা দাগ দেখা দেয়, যা পরবর্তীতে ক্যানসারসহ মারাত্মক রোগে রূপ নিতে পারে। তাই এই রোগ প্রতিরোধে একমাত্র উপায় নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার নিশ্চিত করা।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে বিশুদ্ধ পানির স্থায়ী ব্যবস্থা না করলে ভবিষ্যতে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়বে এবং এই জনপদ একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়বে।