শাহরিয়ার কবির:চরভরাটের মাত্র দেড় শতক জমির ওপর ভাঙা এক চালের জীর্ণ ঘর। সেই ঘরের এক কোণে গত ছয়টি বছর ধরে নিস্প্রাণ, অসার হয়ে পড়ে ছিলেন বৃদ্ধ আব্দুল লতিফ সরদার (৬৪)। সমস্ত শরীরে অসংখ্য টিউমারের তীব্র যন্ত্রণা, তার ওপরপ্যারালাইসিস কেড়ে নিয়েছে নড়াচড়ার ক্ষমতাও। তীব্র অভাবের সংসারে জোটেনি ন্যূনতম চিকিৎসা, মেলেনি কোনোসরকারি সহায়তাও। স্বামীকে বারান্দায় ফেলে রেখে ক্ষুধার তাড়নায় অন্যের দুয়ারে পরিচারিকার কাজ করতেন স্ত্রী ফজিলাবেগম। অবশেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এই অবর্ণনীয় কষ্টের চিত্র উঠে আসতেই প্রশাসনের নজরে আসে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের চরমৌখালী গ্রামের মৃত রজত সরদারের ছেলে লতিফ সরদার।
দীর্ঘ দিন ধরে সমস্ত শরীরে মারাত্মক টিউমার (আব) বহন করার পাশাপাশি গত ৬ বছর ধরে প্যারালাইজড হয়ে পুরোপুরি
শয্যাশায়ী তিনি। সংসারে উপার্জনক্ষম কেউ না থাকায় স্ত্রী ফজিলা বেগম অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে কোনো
রকমে অনাহারে-অর্ধাহারে সংসার চালাচ্ছিলেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও এতোদিন কপালে জোটেনি একটিসরকারি কার্ড বা ন্যূনতম সাহায্য।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে লতিফ সরদারের এই চরম দুর্দশার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তা
দ্রুত আমলে নেয় উপজেলা প্রশাসন। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই আর দেরি করেননি ইউএনও ওয়াসীউজ্জামান চৌধুরী।
সকালেই তিনি সমাজসেবা কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে ছুটে যান উপজেলার চরমৌখালী গ্রামের লতিফ সরদারের সেই ভাঙা
বাড়িতে।
সেখানে গিয়ে ইউএনও অসুস্থ লতিফ সরদারের শয্যাপাশে বসেন, পরম মমতায় তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন
এবং তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার জন্য জরুরি ওষুধ ক্রয়ের নগদ আর্থিক অনুদান তার স্ত্রী ফজিলা বেগমের হাতে তুলে দেন।
একই সাথে তার উন্নত ও দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রশাসনিক দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন
তিনি।
এ সময় ইউএনও’র সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা অনাথ কুমার বিশ্বাস। তিনি জানান,
সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে লতিফ সরদারের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর (ভাতা) স্থায়ী
ব্যবস্থা করার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু করা হয়েছে।